দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের তিন যুবকের পেঁপে চাষে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন
বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার জুয়েল ইসলাম। সেখানে প্রায় তিন বছর পাথর ভাঙার কঠিন কাজ করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে দেশে ফিরে কৃষিতে নিজের ভাগ্য গড়ার চেষ্টা করছেন জুয়েল।
জুয়েল ইসলাম বোচাগঞ্জ উপজেলার ৫নং ছাতইল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের বাসিন্দা। তার সাথে এ উদ্যোগে রয়েছেন একই গ্রামের মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলাম (৩৮)। তারা দুজনই পেশায় রং মিস্ত্রি। তবে সারা বছর রঙের কাজ না থাকায় অনেক সময় তাদের কর্মহীন থাকতে হতো। এ অবস্থায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে তারা পেঁপে চাষে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে তিনজন মিলে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ শুরু করেন। কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। পেঁপে চাষী জুয়েল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের দিকে দেশে কাজের সুযোগ কম থাকায় তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রামের দুইজনকে সাথে নিয়ে সীমিত পুঁজি দিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন।
তাদের বাগানে শাহী জাতের পেঁপে চাষ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাণীগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন তারা। বাগান থেকে কাঁচা ও পাকা দুই ধরণের পেঁপেই বিক্রি করছেন তারা। পেঁপে চাষি জুয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষে তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন।
আরও পড়ুনবাগানে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁপে রয়েছে। অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন। তবে চূড়ান্ত বিক্রির পরিমাণ নির্ভর করবে অবশিষ্ট ফলন ও বাজারদরের ওপর।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, পেঁপে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পেঁপে চাষে ভালো ফলন ও আয় করা সম্ভব। জুয়েল ইসলামের মতো তরুণেরা কৃষিতে উদ্যোগী হলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে পারেন।
মন্তব্য করুন







