ভিডিও রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১২ এএম

রুপালি গিটার ফেলে আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার ৮ বছর

রুপালি গিটার ফেলে আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার ৮ বছর

করতোয়া বিনোদন: রুপালি গিটারের ঝংকারে একসময় মুখর হয়ে উঠত মঞ্চ। তাঁর গানে প্রেম, বিরহ আর না-বলা কথার সুর খুঁজে পেতেন অসংখ্য শ্রোতা। সময় বদলেছে, বদলেছে সংগীত শোনার মাধ্যম; কিন্তু আইয়ুব বাচ্চুর গানের আবেদন আজও অমলিন। মৃত্যুর আট বছর পরও বাংলা ব্যান্ডসংগীতের এই কিংবদন্তি বেঁচে আছেন ভক্তদের হৃদয়ে। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আজ তাঁর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী।
‎
‎১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গিটারবাদক—বহুমাত্রিক পরিচয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সংগীতকে। জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা ও দলনেতা হিসেবে পেয়েছেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা।
‎
‎১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে সোলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে প্রায় এক দশক কাজ করেন। ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে বাংলা ব্যান্ডসংগীতে তৈরি করেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
‎
‎ক্যাসেট-ফিতার যুগ থেকে স্মার্টফোনের সময়—প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে গান শোনার অভ্যাসও। তবু আইয়ুব বাচ্চুর গানের আবেদন কমেনি এতটুকু। একসময় বইয়ের ফাঁকে তাঁর ভিউকার্ড জমিয়ে রাখা, প্রিয় শিল্পীর অটোগ্রাফ সংগ্রহ কিংবা তাঁর গান শুনে বিরহের রাত কাটানোর স্মৃতি আজও বহু ভক্তের কাছে অমলিন।
‎
‎চিঠির যুগ পেরিয়ে ই-মেইল, ফেসবুক আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু সময়ের এই পরিবর্তন আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয়তায় ভাটা ফেলতে পারেনি। প্রেম, বিরহ, অভিমান আর জীবনের নানা অনুভূতি তার গানে খুঁজে পেয়েছেন অসংখ্য শ্রোতা। তারাভরা রাতে কত বিরহী হৃদয় তার গানকে সঙ্গী করেছে, তার হিসাব হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না।
‎
‎ফেরারি মন নিয়ে নিয়ন আলোয় হেঁটে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন আপনজন। তাঁর কণ্ঠ আর গিটারের সুরে অনেকেই খুঁজে পেতেন নিজেদের না-বলা কথাগুলো। ঢাকার মঞ্চ থেকে মফস্বল শহর কিংবা গ্রামের কোনো অনুষ্ঠান—আইয়ুব বাচ্চুর উপস্থিতিই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিত অন্য রকম উন্মাদনা। তাঁর গিটারের সুরে মুগ্ধ হয়ে থাকতেন উপস্থিত সবাই।
‎
‎আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের সুরে ছিল এক অদ্ভুত মায়া। কখনো তা আনন্দে ভাসিয়েছে শ্রোতাদের, কখনো ডুবিয়েছে গভীর বিষণ্নতায়। ‘সেই তুমি’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ ও ‘রুপালি গিটার’-এর মতো অসংখ্য গান তাঁকে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী আসন দিয়েছে। ব্যান্ডসংগীতের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও তিনি অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
‎
‎২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল সংগীতাঙ্গনে। কেঁদেছিলেন অসংখ্য ভক্ত। কিন্তু শিল্পীর বিদায়ে থেমে যায়নি তাঁর সৃষ্টির পথচলা। বরং তাঁর গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রেম, বিরহ আর জীবনের গল্প।
‎
‎আইয়ুব বাচ্চু নেই, কিন্তু তার গান আছে। কোনো নির্জন রাতে ‘ফেরারি মন’ কিংবা ‘সেই তুমি’র সুর বেজে উঠলে ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি, জেগে ওঠে হারানো দিনের অনুভূতি। রুপালি গিটার ফেলে চলে গেলেও বাংলা সংগীতের আকাশে নিজের সুরের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। তাই সময়ের ব্যবধানে তার শারীরিক অনুপস্থিতি যতই স্পষ্ট হোক, গানে গানে আইয়ুব বাচ্চু থেকে যাবেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রুপালি গিটার ফেলে আইয়ুব বাচ্চুর চলে যাওয়ার ৮ বছর

১

নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যায় গ্রেফতার ১

২

মেসির জোড়া গোলে জয় পেল মায়ামি

৩

প্যারিসে ব্যাপক লুটপাট চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা

৪

অন্ধকারে ডুবেছে পুরো শ্রীলঙ্কা

৫

নয় ম্যাচে নয় জয়, ইয়ামালের জাদুতে বার্সার নতুন ইতিহাস

৬