ভিডিও বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৮ এএম

 হাফিজার রহমান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান নয়, চাই স্থায়ী ব্যবস্থা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান নয়, চাই স্থায়ী ব্যবস্থা

বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি কোনো সমস্যা নয়; এটি ধীরে ধীরে একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রকোপ, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন সংস্থার জরুরি অভিযান ফগিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অস্থায়ী উদ্যোগগুলো কি সত্যিই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে? ‎‎কিন্ত বাস্তবতা হলো, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের কার্যক্রম অধিকাংশ সময়ই প্রতিক্রিয়াশীল অর্থাৎ সমস্যা দেখা দেওয়ার পর আমরা তৎপর হই। কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হলে শুধু মাঝে মাঝে অভিযান চালালেই হবে না; বরং সারা বছর জুড়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

‎‎প্রথমত, নগর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, এবং জলাবদ্ধতা ডেঙ্গুর মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। শহরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। তাই উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলোর যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। ‎‎দ্বিতীয়ত, জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজের বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির ট্যাংক এসব জায়গায় জমে থাকা পানিই মশার বংশবিস্তার ঘটায়। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

‎‎তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে গবেষণা ও প্রস্তুতি জোরদার করা দরকার। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে আরও উন্নত পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। ‎‎সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সমন্বিত উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ জনগণ সবার অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং সারা বছর ধরে একটি টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। ‎‎

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার। আমরা যদি এটিকে শুধুমাত্র মৌসুমি সমস্যা হিসেবে দেখি, তাহলে কখনোই এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। বরং এটিকে একটি চলমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‎‎ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন সুপরিকল্পিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা। এখনই সময় সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ডেঙ্গুমুক্ত সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার।

‎লেখক :  শিক্ষার্থী, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান নয়, চাই স্থায়ী ব্যবস্থা

১

বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে ৪ বিষয়ে মাস্টার্স ফাইনাল কোর্সের অধিভুক্তি 

২

ফেসবুকে বন্দি মানুষ হারাচ্ছে চিন্তাশক্তি ও মূল্যবোধ

৩

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩ হাজারের বেশি যাত্রী

৪

বাংলাদেশ সফরের জন্য দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৫

সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন ইনু

৬