ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১১ পিএম

আনিকা নাওয়ার রিতু

যুব সমাজেরস্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

যুব সমাজেরস্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

যুব সমাজ বলতে মূলত তরুণ প্রজন্যকে বুঝানো হয়। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের নীতিমালা অনুসারে বয়স সময় কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। যেমন: জাতিসংঘে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের যুব বলা হয়। 
"বাংলাদেশ জাতীয় যুব নীতি ২০১৭” অনুসারে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 যুবসমাজ একটি জাতির গুরুত্বপূর্ণ স্তর। শিশুরা যেখানে নির্ভরশীল, আর বয়স্করা অভিজ্ঞ হলেও শারীরিকভাবে দুর্বল, সেখানে যুব সমাজই থাকে শক্তি ও উদ্যমের শীর্ষে। এ বয়সে মানুষ কর্মক্ষম, সাহসী, নতুন স্বপ্ন গড়ার মানসিকতায় ভরপুর থাকে। তাই তারা স্বভাবতই অন্য স্তর থেকে ভিন্ন। একটি দেশের উন্নয়ন, পরিবর্তন ও অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে নতুন তরুণ প্রজন্ম। তাদের উদ্যম, স্বপ্ন, সাহসের কারণেই সমাজে নতুন ধারণার সূচনা হয়।

 বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ দেশের প্রায় এক- তৃতীয়াংশ মানুষ যুব সমাজের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তাদের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, উদ্দীপনা ভবিষ্যতের উন্নয়ন নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের যুবকদের স্বপ্ন বহুমাত্রিক। তারা চায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশ ও পরিবারের হাল ধরতে। অনেক তরুণ স্বপ্ন দেখে দেশের ঘুনে ধরা সমাজ-ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে এক অন্যতম মানসম্মত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার। 

এছাড়া তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জন করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা অবদান রাখতে চায়। এছাড়া মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাদের স্বপ্ন থাকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার। কিন্তু বাস্তবতা কি আসলে তাই? বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে তাত্ত্বিক। যা চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত দক্ষতা তৈরি করতে ব্যর্থ। গত দুই দশকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ অনেক বেড়েছে। তবে শিক্ষার সুযোগ বাড়লেও তা কর্মসংস্থানে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। 

আরও পড়ুন

স্নাতক ডিগ্রিধারীরা আজ চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। নিয়োগকর্তারা প্রায়শই অভিযোগ করেন যে ডিগ্রি-ধারীদের শিল্পে প্রতিযোগিতায় ব্যব-হারিক দক্ষতার অভাব রয়েছে। একা-ডেমিক সিলেবাস এবং বাজারে চাহিদার মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ হয় বেকার নয়তো অর্ধ বেকারত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। ফলস্বরূপ উচ্চশিক্ষিত হয়েও অসংখ্য তরুণ দীর্ঘদিন বেকার থেকে হতাশায় ভোগে। আর যারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে পাড়ি জমায়। আর যারা শিকড়ের টানে কিংবা সুযোগের অভাবে দেশে থেকে যায়, তারা সমাজের বাস্তবতার বেড়াজালে আটকে পড়ে। এছাড়া সমাজের বিদ্যমান দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মাদকাসক্তি ও ভ্রান্তধারার রাজনীতি তরুণদের স্বপ্নকে দমিয়ে দিচ্ছে। 

অনেক সময় রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে তারা বিভাজিত হয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের প্রকৃত শক্তি জাতির কাজে লাগানো যায় না। তবুও আশার আলো এই যে, আমাদের তরুণরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, ২৪ শে জুলাই বিপ্লব প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণরা কতটা নির্ভীক আর স্বপ্ন জয়ী। তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ, চাকরির বাজার দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। শুধু শুধু চাকরির আশায় বসে না থেকে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাদের মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রযুক্তি খাতে তরুণদের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে। ফ্রিলান্সিং, স্টার্টআপ, কৃষি ও শিল্প খাতে তাদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তরণ সমাজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পারলেই বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুব সমাজেরস্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

১

বগুড়ায় দুই শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে ধর্ষকের দুই মেয়াদের যাবজ্জীবন সাজা

২

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা

৩

মা ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

৪

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত ৩

৫

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫২৮

৬