ডব্লিউএইচও’র স্বীকৃতি পেল ভারতের প্রথম এইচপিভি টিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রাক-যোগ্যতার (প্রিকুয়ালিফিকেশন) অনুমোদন পেয়েছে ভারতের প্রথম নিজস্ব হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকা ‘সারভাভ্যাক’। এই স্বীকৃতির ফলে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তৈরি এই লিঙ্গ-নিরপেক্ষ টিকাটি এখন জাতিসংঘভুক্ত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্রয়ের জন্য যোগ্য বিবেচিত হলো।
সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি সারভাভ্যাক একটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ টিকা, যা ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই দেওয়া সম্ভব। এটি এইচপিভির ৬, ১১, ১৬ এবং ১৮—এই চার ধরনকে প্রতিহত করে। ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী যে কেউ এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে। এইচপিভি ৬ ও ১১ টাইপকে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়, যা মূলত জেনিটাল ওয়ার্টস বা যৌনাঙ্গের আঁচিলের জন্য দায়ী। অন্যদিকে, ১৬ ও ১৮ টাইপ দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা একাধিক ক্যানসারের মূল কারণ। নারীদের ক্ষেত্রে এই টিকা জরায়ুমুখ (সার্ভিক্যাল), ভলভার, ভেজাইনাল ও অ্যানাল ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি পুরুষদের ক্ষেত্রে এইচপিভি টাইপ ১৬ ও ১৮-এর সংক্রামণে সৃষ্ট অ্যানাল ক্যানসার প্রতিরোধে এটি কার্যকারী।
এর আগে ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) দেশে ব্যবহারের জন্য সারভাভ্যাক-এর অনুমোদন দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন এই প্রাক-যোগ্যতা অর্জনের ফলে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে টিকাটি পৌঁছানোর পথ সুগম হলো।
সিরাম ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৬ মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। অপরদিকে ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে দেওয়া হবে তিনটি ডোজ। এক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মাঝে দুই মাস এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজের মাঝে ছয় মাসের ব্যবধান থাকতে হবে। টিকাটির তিনটি ডোজই এক বছরের মধ্যে শেষ করা আবশ্যক। এটি শরীরের মাংসপেশিতে প্রয়োগ করা হয়, কোনো রক্তনালিতে সরাসরি দেওয়া হয় না।
আরও পড়ুনএক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনওয়ালা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রাক-যোগ্যতা পাওয়া এইচপিভি প্রতিরোধে বৈশ্বিক লড়াইকে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই মাইলফলক টিকার কার্যকরতাই প্রমাণ করে এবং বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর জন্য এইচপিভি সংক্রান্ত ঝুঁকি প্রতিরোধের একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সারভাভ্যাক-এর প্রতি ০.৫ মিলিগ্রামের ডোজে প্রোটিন রয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু করা চারটি এইচপিভি টাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই টিকাটি 'হানসেনুলা পলিমরফা' নামের একটি বিশেষ স্ট্রেইন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এটি তৈরি করেছে ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিল (বিআইআরএসি), ডব্লিউএইচও-র ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের যৌথ সহযোগিতায়।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
_medium_1791281602.jpg)
_medium_1791278321.jpg)
_medium_1791274707.jpg)
_medium_1791273312.jpg)
_medium_1791272866.jpg)
_medium_1791269497.jpg)
_medium_1791271599.jpg)
_medium_1791269269.jpg)
_medium_1791282276.jpg)