বগুড়া এডোয়ার্ড পার্কে মশা নিধনে আধুনিক ডিভাইস: স্বস্তি প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এডোয়ার্ড পার্কে আগত দর্শনার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্কে মশার উপদ্রব কমাতে সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক ইলেকট্রনিক মশা মারার ডিভাইস। আধুনিক এই প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পার্কে বিনোদনের জন্য আসা সাধারণ মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার পৌর পার্কে গিয়ে দেখা যায় থিঙ্ক ল্যাবসের তৈরি মেটাল বডির এই আধুনিক ডিভাইসটি। এর মাধ্যমে কৃত্রিম আকর্ষণ তৈরি করা হয়। জানা গেছে মানুষ বা প্রাণির নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে অনুসরণ করে মশা মানুষের কাছাকাছি আসে। এই যন্ত্রটি ঠিক একই নীতিতে কাজ করে।
এর ওপরের অংশে বিশেষ প্রলেপযুক্ত আলো এবং সাকশন ফ্যান আছে। আলো ও বিশেষ প্রলেপের এই মিথস্ক্রিয়ায় এমন এক কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি হয়, যা মশার কাছে মানুষের উপস্থিতি বলে মনে হয়। সেই ফাদ বা ট্র্যাকিংয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থাকা মশাগুলো যখন এই আলোর আকর্ষণে কাছে আসে, তখন যন্ত্রের ভেতরের শক্তিশালী ফ্যানের (সাকশন ফ্যান) টানে সেগুলো ভেতরে ঢুকে পড়ে।
একবার মশাগুলো যন্ত্রের ভেতরে প্রবেশ করলে ফ্যানের বাতাসের টানে সরাসরি নিচের ট্র্যাপ চেম্বারে আটকে যায় এবং সেখানে ডিহাইড্রেড (পানিশূন্যতায়) হয়ে মারা যায়। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং ক্ষতিকর ধোঁয়া বা রাসায়নিক স্প্রে ছাড়াই মশা নিধন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুননতুন এই গ্যাজেট চালুর পর পার্কে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এরমধ্যে সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে পৌর পার্কে প্রায়ই আড্ডা দিতে আসি। কিন্তু মশার কামড়ের জ্বালায় বেশিক্ষণ টেকা দায় হতো। সিটি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিটি বসার জায়গাতে এমন মেশিন লাগানো উচিত। তবেই পার্কে একটু বসা যাবে।
একই কথা বললেন গৃহিনী নাসরিন সুলতানা । তিনি জানান, বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা মানেই মশার কামড় খাওয়ার দুশ্চিন্তা। এই রঙিন আলোর গ্যাজেটটি দেখে বাচ্চারাও আনন্দ পাচ্ছে। এমন উদ্যোগ পুরো শহরে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।”
পরিবেশের ক্ষতি না করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জনবহুল স্থানে মশা নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগ বগুড়া পৌর পার্কের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পার্কের অন্যান্য পয়েন্টেও এমন আরও ডিভাইজ স্থাপন করা হলে দর্শনার্থীরা আরও নির্বিঘ্নে সময় কাটাতে পারবেন।
মন্তব্য করুন







