ভিডিও সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৫ পিএম

আশ্বিনে চৈত্রীয় দাবদাহ, শিনশিনে শীতের বদলে পুড়ছে জনজীবন

আশ্বিনে চৈত্রীয় দাবদাহ, শিনশিনে শীতের বদলে পুড়ছে জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকৃতিতে এখন আশ্বিন মাস। আবহমান বাংলার প্রবাদ বলে, “আশ্বিন, গা করে শিনশিন”—অর্থাৎ এই সময় থেকেই শীতের আমেজ শুরু হওয়ার কথা। অথচ শরৎকালের স্নিগ্ধতার পরিবর্তে আকাশে সূর্য যেন মাথার ঠিক ওপরে নেমে এসেছে।

দিনের তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস হয়ে উঠেছে গোটা জনপদ। ভাদ্র ও আশ্বিন মিলে শরৎকাল হলেও চলতি বছর আশ্বিনের শুরু থেকেই রুদ্ররূপ ধারণ করেছে প্রকৃতি। গরম কমার নাম নেই, উল্টো মনে হচ্ছে প্রখর চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহ চলছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তীতে নিম্নচাপে পরিণত হলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এই সাময়িক বৃষ্টিপাতও প্রকৃতিকে খুব একটা শীতল করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাঝেই দেশের ১৮টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গতকাল সোমবার বগুড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে গা ঘামার অস্বস্তিতে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদের কারণে শহরের ব্যস্ত রাস্তাঘাটগুলো দুপুরের দিকে প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না বিন্দুমাত্র স্বস্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ।

আরও পড়ুন

একটু জীবিকার সন্ধানে যাদের সারাদিন রোদে পুড়ে রাস্তায় থাকতে হয়, তাদের দুর্দশার শেষ নেই। সামান্য মেঘের দেখা মিললেও ঝুম বৃষ্টির দেখা নেই, ফলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা কাটছেই না। শিশু ও বয়স্করাও এই গরমে মারাত্মকভাবে কাহিল হয়ে পড়েছেন।

দুপুর ১২টায় বগুড়ার মাটিডালি এলাকায় কথা হয় ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক ছামছুল প্রামাণিকের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আল্লাহ যদি এমন রোদ দেন, তবে না খেয়ে থাকতে হবে। রোদ ও গরমে রিকশা চালাতে পারছি না। সকাল থেকে মোটে ২০০ টাকা রোজগার হয়েছে। একটা যাত্রী পৌঁছে দিয়েই দম নিতে হচ্ছে, নয়তো তেষ্টা ও গরমে বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।”

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, এই মুহূর্তে বড় ধরনের ঝুম বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। নিম্নচাপের প্রভাবে সামান্য বৃষ্টি হলেও তা প্রকৃতিকে তেমন ঠান্ডা করতে পারবে না। মাথার ওপর আগুন ঝরানো রোদ আর ফুটন্ত পিচঢালা রাস্তার মাঝে টিকে থাকার এই লড়াই শুধু শরীরই নয়, খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা ও জীবনকেও কঠিন করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশ্বিনে চৈত্রীয় দাবদাহ, শিনশিনে শীতের বদলে পুড়ছে জনজীবন

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার মোকামতলায় মহাসড়কের সেতুর মুখ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা

এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনে ইসির নতুন নিয়ম

বগুড়ার ধুনটে নাশকতার মামলায় আ.লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: প্রতিবাদে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ