ভিডিও রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২১ পিএম

সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা করতে পারবো না : ডা. শফিকুর রহমান

সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা করতে পারবো না : ডা. শফিকুর রহমান

রংপুর প্রতিনিধি : বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষবো না। 

গতকাল শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা প্রতারণা করতে পারবো না। সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বিশ্রাম নেবো না। আমরা নেমেছি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। সেই অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে কোনো সংবিধান মেনে ২৬ এর গণবিপ্লব হয় নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়েই এই ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়েছে। যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও নাই, কোনো সরকারও নাই। সুতরাং মানতে হলে সবটা মানতে হবে। আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার কি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন? গণভোটের রায় মানেন নাই। তিনি অগ্রাহ্য করেছেন। অবশ্য সাহস করে তারা বলতে পারে না যে,  আমরা গণভোট মানবো না। ইনাইয়া-বিনাইয়া বলে যে সংবিধানে গণভোট নাই।

১১ দলীয় জোটের ৮ দাবি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, একটা দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। এই দাবিগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি। ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে কোনঠে, তিস্তা বাঁচাও’ এই আওয়াজ দিয়েছিলেন আপনাদের এখানকার এক মন্ত্রী। সংসদের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী তিনি পরিষ্কারভাবে বললেন, ‘যেই নামেই হোক তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।’ সাত মাস চলে গেল, নড়াচড়া যে কিছু বুঝি না। কোন দিক থেকে কোন পানিপড়া খাইলেন? এখন যে আপনাদের কণ্ঠে অত জোর দেখি না। জনগণকে বারবার ধোকা দেওয়া ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন

জামায়াত আমির বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেই মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাদের নির্বাচিত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছিলাম গোটা উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবো। নদীগুলোর জীবন আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবকিছু সহ্য করে দেশের স্বার্থে এই নির্বাচনের অনিয়মের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম যে, দেশটা শান্তির দিকে আসুক। আর উনারা তো দফায় দফায় জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছে। কিন্তু আজ খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার, সংসদে গিয়ে এখন সব ভুলে গেছে। তারা উল্টা পথে চলছে, যেই পথে হাসিনা চলে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। আমরা স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি সেই পথেই, সেই পথ ধরেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে পরিণতি একই হবে।

তিনি আরও বলেন, রংপুরে মানুষ গ্যাস পায় না। কৃষকরা সার পায় না সন্তানরা হাতে কাজ পায় না। তবে একটি দলের লোক কাজ পায়। এই কাজ হলো চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজি সারাদেশে আছে। চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতি। এই চাঁদাবাজদের কারণে দ্রব্যমূল্য তিনগুণ, চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাঁদাবাজদের কারণে মানুষের জীবনও চলে যাচ্ছে।
জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা করতে পারবো না : ডা. শফিকুর রহমান

স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন আজ

দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন

ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর উত্তর কোরিয়ায় বেড়েছে ভূমিকম্প

ঐক্যের বার্তায় পর্দা উঠল এশিয়ান গেমসের