সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা আদেশ জারি
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই আদেশ জারি করেছেন অর্থসচিব। নতুন এই বেতন ও ভাতা কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের পুরনো বেতন আদেশটি রহিত করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে বিদ্যমান ১ থেকে ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতনের অংকে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বা ১ম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, যা ২০১৫ সালের স্কেলে ছিল ৭৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য গ্রেডগুলোর মধ্যে ২য় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে শুরু হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা থেকে। ৫ম গ্রেডের বেতন শুরু হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা থেকে, যা আগে ছিল ৪৩ হাজার টাকা। ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ১১তম গ্রেডের বেতন ১২,৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার এবং ১৫তম গ্রেডের বেতন ৯,৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২,৮০০ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিবদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকার এই বর্ধিত মূল বেতন কর্মচারীদের মোট তিনটি ধাপে প্রদান করবে।
প্রথম ধাপে, গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের মধ্যে করবে। ৯ম গ্রেড ও তদ্বোর্ধ্ব স্তরের কর্মকর্তারা বেতন বৃদ্ধির মোট অংকের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন, দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে উভয় স্তরের কর্মচারীরা যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন।
সর্বশেষ ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা গত ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বর্ধিত বেতন বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে পাবেন। তবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট পেনশন ধাপে ধাপে বৃদ্ধির একই নিয়ম করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি বছরের ৩০ জুন নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের মাসিক নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৯ হাজার টাকা তাদের শতভাগ বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনযাদের পেনশন ৯ হাজার ১টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পেনশন, ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার করা হয়েছে। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা যাদের পেনশন ছিলো সেটা ৬৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪৯ হাজার টাকা হবে। যাদের ৩০হ্জাার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনভোগীদের ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে এবং ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে ৬২ হাজার করা হবে। ৪০ হাজার ১টাকা বা তদূর্ধ্ব পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ন্যূনতম নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কার্যকর হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির জন্য গ্রেড ২০ থেকে ১৬ এর কর্মচারীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, গ্রেড ১৫ থেকে ১০ এর কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ, গ্রেড ৯ থেকে ৫ এর কর্মচারীরা ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড ৪ থেকে ১ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।
চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌরসভার জন্য এই হার যথাক্রমে মূল বেতনের ৫০, ৪০, ৩৫ও ৩০ শতাংশ হবে।
উপরোক্ত এলাকা ব্যতীত দেশের অন্য সব অঞ্চলের জন্য বাড়ি ভাড়ার হার গ্রেড অনুযায়ী যথাক্রমে ৪৫, ৩৫, ৩০ ও ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য সব ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের হারেই দেওয়া হবে।
মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন কর্মরত ও পেনশনভোগীরা। চিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং এর বেশি বয়সের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা হিসেবে এক সন্তানের জন্য ৫শ’ টাকা এবং দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা মাসিক ভাতা ধরা হয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই যদি সরকারি চাকরিজীবী হোন সেক্ষেত্রে শুধু একজনই এই ভাতা তাদের সন্তানদের জন্য পাবেন। এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান থাকলে তার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
মন্তব্য করুন

_medium_1789831808.jpg)



_medium_1789823334.jpg)
_medium_1789822470.jpg)


