ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২২ পিএম

শিশু ‎কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মরদেহ খুঁজতে বের হয় আসামিরাও

ছবি: সংগৃহীত, শিশু ‎কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মরদেহ খুঁজতে বের হয় আসামিরাও

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই শিশুটিকে খুঁজতে বের হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলেও অংশগ্রহণ, এমনকি নিখোঁজ কলিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা সাথে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।

এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- কুলুনিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে মোস্তফা কামাল(৫৫) এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী(২১) । বর্তমানে ইয়াছিন আলী কুলুনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় বাস করতো। 

পুলিশ সুপার জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলুনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। ওইদিন মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী শিশুটিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের শোবার ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। পরে মরদেহ গুম করতে প্রথমে হলুদ রঙের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে মোস্তফার ঘরের খাটের নিচে রাখে। পরদিন রাতে মরদেহসহ বস্তাটি আবার সাদা রঙের আরেকটি বস্তায় ঢোকানো হয়। পরে দু’টি ইট বস্তার সাথে বেঁধে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোঁপঝাঁড় ও লতাপাতার নিচে পানিতে ডুবিয়ে রাখে অভিযুক্তরা। এদিকে কলিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর করা মানববন্ধন ও তল্লাশিতেও আসামিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ সুপারের দাবি, ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আসামিরা ডোবা থেকে মরদেহটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। বস্তাটি একটি সেফটি ট্যাংকের কাছে নেওয়ার সময় তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় কুকুরের ডাক শুনে ভয় পেয়ে তারা বস্তাটি সেখানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
‎পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে কলি তার ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানে যায়। ওই সময় মোস্তফা শিশুটির একাধিক ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ছবিগুলো মুছে ফেললেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। কলি হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২ আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, ধর্ষণ ও হত্যার পুরো ঘটনা এবং মরদেহ গুমের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
‎মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বৃহস্পতিবার তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন, ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম,  সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিশু ‎কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মরদেহ খুঁজতে বের হয় আসামিরাও

বগুড়ার বনানীতে সিটি কর্পোরেশনের অননুমোদিত বিলবোর্ড স্থাপন বন্ধ

বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জালসনদ তৈরীর সরঞ্জামসহ আটক ১

নাটোরের বড়াইগ্রামে রঙবিলাস আখচাষ কৃষিতে উন্মোচিত নবদিগন্ত

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু

দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদির মৃত্যু