ভিডিও বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩২ পিএম

শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে মাত্র সাতদিনেই চাকরিতে নিয়োগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে মাত্র সাতদিনেই চাকরিতে নিয়োগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নবির উদ্দিন, নওগাঁ: চোখে আলো না থাকলে কী হয়েছে, মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে সব বাধা জয় করা যায়—তারই এক দারুণ প্রমাণ দিলেন নওগাঁর শাকিল হোসেন। আজন্ম দৃষ্টিহীন এই তরুণ সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভাইভা বোর্ড থেকে বার বার খালি হাতে ফিরে আসার পর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ (৯ম গ্রেড) পদে চাকরি পেলেন শাকিল হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল হোসেন। নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের শৈশব থেকেই লড়াইটা ছিল অবিরত।

মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বদলগাছী সরকারি কলেজ পেরিয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ চলার পথে শক্তি জুগিয়েছিলেন তার ছোট ভাই সাব্বির এবং বন্ধু গৌতম, যারা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে তার পড়াশোনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

পড়াশোনা শেষ করে অন্যান্য সাধারণ যুবকের মতো শাকিলও নেমেছিলেন কর্মসংস্থানের সন্ধানে। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরও বড় এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে পৌঁছানোর পর কেবল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই চরম হতাশা যখন তার চারপাশ ঘিরে ধরেছিল, ঠিক তখনই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক সুযোগ আসে। শাকিল তার জীবনের এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও মেধার গল্পটি তুলে ধরেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর কাছে।

আরও পড়ুন

এই সংসদ সদস্য শাকিলের অদম্য জেদ ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করেন। এরপর তিনি কালক্ষেপণ না করে এই মেধাবী তরুণকে নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। একজন সাধারণ পরিবারের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরুণের চোখের জলের পেছনের স্বপ্নকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোমাত্র সাতদিনের মধ্যে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ঘটনাটি শাকিলের কাছে রূপকথার মতো মনে হচ্ছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শাকিল বলেন ‘নবম গ্রেডের একটা চাকরি পাওয়া আমার কাছে কল্পনার চেয়েও বড় ব্যাপার। আমার মতো একজন মানুষের জন্য এটি অনেক বড় একটি পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু আমার পাশে না দাঁড়ালে আজ আমার এই স্বপ্ন কখনোই বাস্তব হতো না। আমি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব। শাকিলের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ মূল্যায়ন করতে চেয়েছি আমি। তাই তাকে সরাসরি আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। মাত্র সাতদিনের মধ্যে একটি সংগ্রামী ছেলের জীবনের এমন সুন্দর পরিবর্তন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে মাত্র সাতদিনেই চাকরিতে নিয়োগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নীলফামারীতে শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন 

লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতার চেষ্টা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজশাহী অঞ্চলে হারানো সরকারি অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আন্তজেলা দুই ডাকাত গ্রেফতার : হাসুয়া ও সিঁদকাঠি উদ্ধার