ভিডিও রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৯ পিএম

 কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’ সহ অসংখ্য গানের শিল্পী আব্দুল জব্বারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । বাংলাদেশের সংগীত যে সমস্ত গুণী শিল্পীদের হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিল্পী হলেন আব্দুল জব্বার। বরেণ্য এই কণ্ঠশিল্পী ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ১ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরের আওড়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম দখিল উদ্দিন প্রামাণিক এবং মায়ের নাম বেগম ফুলজান। সুকন্ঠের অধিকারী আব্দুল জব্বার গানের জন্য ছেলেবেলাতেই তাঁর বন্ধুমহলে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ছেলের এই সুন্দর কন্ঠ তাঁর মা ফুলজান খুব পছন্দ করতেন এবং তাঁকে গান গাইতে উৎসাহিত করতেন।

তিনি ওস্তাদ লুৎফল হকের কাছে সংগীতে উচ্চতর তালিম গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান রেডিও এবং ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন আব্দুল জব্বার। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে।

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তাঁর গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’ গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর গাওয়া আর একটি কালজয়ী গান ‘ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া’।

ষাটের দশকের শেষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন আব্দুল জব্বার। আটষট্টি-ঊনসত্তরের উত্তাল গণ-আন্দোলনের সময় পল্টন ময়দান, রেসকোর্স মাঠ (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ইত্যাদি ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী জনসভা লেগেই থাকত। এসব জনসভায় বক্তৃতার পরেই শুরু হতো গণসংগীতের আসর। এসব গণসংগীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন আব্দুল জব্বার। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চের শেষের দিকে আব্দুল জব্বারের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হুলিয়া জারি হলে কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো নৌকা যোগে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আগরতলা চলে যান।

আরও পড়ুন

সেখান থেকে আগরতলার বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সহযোগিতায় কলকাতা যান এবং যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। আব্দুল জব্বার ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের এবং কাঁধে হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে গণসংগীত গেয়ে প্রেরণা যুগিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সাথে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করেন।

২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নেয় আব্দুল জব্বারের গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে’, এবং ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- একুশে পদক (১৯৮০), স্বাধীনতা পদক (১৯৯৬) জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস আজীবন সম্মাননা পুরস্কার, সিটিসেল চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা পুরস্কার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কিয়েভে রুশ হামলায় নিহত বেড়ে ৩৭

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন : চ্যালেঞ্জ করে রিট

ফরিদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিন বন্ধুর

গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ : রাষ্ট্রপতি

বগুড়া সাতমাথায় নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে ৩৩৪টি গুলি উদ্ধার

 কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ