আফিফা জাহান পুষ্প
আমেরিকায় অভিবাসন স্বপ্ন নাকি অনিশ্চয়তা
জীবনের প্রয়োজনে অনেককে মাতৃভূমি ছাড়তে হয়। কেউ তো আর শখ করে নিজ দেশ ত্যাগ না। জীবনকে পরিবর্তন করার জন্য, একটু সচ্ছল বা উন্নত জীবনের আশায় দেশ ত্যাগ করতে হয়। অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় উন্নত দেশে বসবাস করাটা তো খারাপ কিছু না। উন্নত দেশে স্থায়ী নাগরিক হতে পারলে জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সেটা আর কয়জনের ভাগ্যে জুটে। খুব কম সংখ্যক মানুষ যারা বিদেশ পাড়ি দিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পায়।
স্বপ্নের দেশ আমেরিকা এক সময় অপি-১, ডিভি-১ এর মাধ্যমে গ্রীন কার্ড দিয়ে বিদেশীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য সুযোগ দিয়েছিল কয়েক দশক আগে থেকে। সেই সুবাদে অনেক বাংলাদেশি সহ অন্যান্য দেশের ভাগ্যবানরা আমেরিকাতে নাগরিক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমানে ট্রাম্প সরকার আসায় সে আশায় গুড়েবালি। তৃতীয় বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পাওয়া স্বপ্নের মতো। যারা ভালো জীবনের সন্ধানে আছেন, তাদের আমেরিকায় অভিবাসন স্বপ্ন নাকি অনিশ্চয়তাজন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
আমেরিকা মূলত অভিবাসন-ভিত্তিক একটি দেশ, যা বৈশ্বিকভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। এই লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার নামে একটি নীতি চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিশ্বের দক্ষ জনশক্তিকে স্বাগত জানায়। শুধু দক্ষ কর্মীরাই নন, অদক্ষ ব্যক্তিদের জন্যও এখানে সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এটি বহু সংস্কৃতির এক সংকর সমাজ, যেখানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ আমেরিকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যারা যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, নির্যাতন, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, তারা আমেরিকায় অন্তত এক বছর থাকার পর আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের আশায় অনেকেই অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হন, যার মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত পদ্ধতি হলো ডনকি ফ্লাইট। এই পদ্ধতিতে কেউ পর্যটক ভিসা নিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করে এবং আর দেশে ফেরত যান না। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষত, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট অভিযানের কারণে আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আরও পড়ুননিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কারণ অনেককে জন্ম সনদ বা পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু বাংলাদেশি আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয় প্রক্রিয়াকে কঠোর শর্তযুক্ত করে তুলছে। বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়া অনেকের জন্য দীর্ঘ ও জটিল। যারা ১৪ থেকে ১৭ বছর ধরে পারিবারিক ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা আদৌ আমেরিকায় যাওয়ার অনুমতি পাবেন কি না! এত বছর অপেক্ষার পরও কি তারা আমেরিকার নাগরিক হতে পারবেন, নাকি তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে?
লেখক: শিক্ষার্থী, টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি jahanafia44@gmail.com
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1787723104.jpg)
_medium_1787549411.jpg)
_medium_1787548880.jpg)
_medium_1787460863.jpg)
_medium_1787379762.jpg)
_medium_1787205527.jpg)
_medium_1787981127.jpg)

