লালমনিরহাটে ধর্ষণের দায়ে সৎ বাবার যাবজ্জীবন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে সৎ বাবা কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণ ও অন্তসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডসহ এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেছেন আদালত।
দন্ডাদেশপ্রাপ্ত ওই আসামি হলো- রংপুর কোতয়ালী থানার খটখটিয়া এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে লেলিন। লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক দায়রা জজ নিত্যানন্দ সরকার এদিন এক জনাকীর্ণ আদালতে ওই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।
একই রায়ে আদালতের ওই বিচারক দন্ডিতের উপর আরোপিত অর্থদন্ড ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য এবং দন্ডিত ব্যক্তির আপিলের সময় উর্ত্তিণের পর আদায়যোগ্য হবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে দন্ডিতরা সম্পদের মালিক হলে সেই সম্পদ থেকে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় হবে বলেও একই রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জ বানিয়াপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও নাজিরা বেগম দম্পতির ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। মেয়েটির বয়স যখন ৯ বছর, তখন বাবা আনোয়ার হোসেন মারা যান। পরে মা নাজিরা বেগম উক্ত দন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিয়ে করেন।
আরও পড়ুনএরমধ্যে সৎ বাবার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার দিকে। এরমধ্যে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সৎ বাবা একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে। এরই জেরে কিশোরী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। একপর্যায়ে পুরো ঘটনা ফাঁস হলে ভুক্তভোগী নিজে বাদি হয়ে সৎ বাবা আরিফুল ইসলাম ওরফে লেলিনকে আসামি করে ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে এ মামলার চার্জশীট দাখিল করলে আদালতের ওই বিচারক স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এদিন বিকেলে আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন। রায়ে ন্যায় পেয়েছেন বলে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান মামলার বাদি ভুক্তভোগী ওই কিশোরী।
মন্তব্য করুন







