ভিডিও বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৪৩ পিএম

হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাট পাঁচবিবির কৃষক-ব্যবসায়ী

হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাট পাঁচবিবির কৃষক-ব্যবসায়ী

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : গত বছরের লোকসান ভুলে লাভের আশায় এবছর মাঠ থেকে আলু উত্তোলনের পর বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষক-ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের শুরুতেই আলুর দাম কম থাকায় লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন তারা।

তবে বেশি দামে বিক্রির জন্য হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে এখন বিপাকে আছেন কৃষক-ব্যবসায়ীরা। আলুর দরপতনে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এবছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণে সব মিলে প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এতে করে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের আলুচাষি মিজানুর রহমান জানান, এবছর ৫০ শতকে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেওয়াসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছিলেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে করে ভরা মৌসুমেই আলুতে লোকসান হয়েছে কৃষকের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

মৌসুমি আলু ব্যবসায়ী মো. জাকারিয়া ও  আয়ুব আলীসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর ভরা মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন  তারা। বাজারে বেশি দামের আশায় তারা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর কৃষকের জমি থেকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি বস্তা আলুতে গুণতে হয়েছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন

বর্তমান বাজার ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা ৬০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে। এতে করে তারা বড় অংকের টাকা লোকসানে আছেন। এছাড়া হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির চাপও আছেই। পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা আফিয়া হিমাগারের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে তারা কোনো ভাড়া বাড়ায়নি। তার দাবি, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বাড়লেও তারা ভাড়া বাড়াননি। আগের ভাড়াই নিচ্ছেন তারা। তবে কোনো হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে এ বছর প্রায় ৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর  জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে সরকারিভাবে বিদেশে আলু রপ্তানির পাশাপাশি আলুর বহুমাত্রিক ব্যবহারের প্রয়োজন। তাছাড়া কৃষকের সংরক্ষণ খরচ কমানো বিষয়ে কোন কৃষক লিখিত অবেদন করলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবহিত করবো।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাট পাঁচবিবির কৃষক-ব্যবসায়ী

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা

বগুড়ার শেরপুরে প্রিন্স সুপার আইসক্রিমের ১ লাখ টাকা জরিমানা

দরপত্র ছাড়া ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ওড়না পেঁচিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা

১১ বছর পর একসঙ্গে, দেবকে নিয়ে শুভশ্রীর খোলা চিঠি