লালমনিরহাটে অন্ত:সত্ত্বা নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ বাড়ির লোকজন লাপাত্তা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম নামে এক অন্তঃসত্ত্বার রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে গেছে স্বামীর বাড়ির লোকজন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগের দিন রোববার রাজধানী ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ির ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। মৃত গৃহবধূ চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে আলফেস আলীর মেয়ে আফরোজার সঙ্গে বিয়ে হয় চলবলা নিথক গ্রামের দীন ইসলামের। বিয়ের পর কাজের সুবাদে রাজধানী ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন আফরোজা দীন ইসলাম দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হত না।
প্রায় সময় সাংসারিক কলহ নিয়ে আফরোজার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত স্বামী দীন ইসলাম। এরই মধ্যে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা।
সর্বশেষ গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে। এ কথা বলার পরই ফোন কেটে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে স্বামী দীন ইসলাম শ্বশুরকে ফোনে জানায়, আফরোজা অসুস্থ তাকে হাসপাতালে নিতে হবে, টাকা পাঠান তার চিকিৎসা করাতে হবে।
আরও পড়ুনটাকা পাঠানো দেরি হলে তারা জানায়, আফরোজা মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকালে একটি লাশবাহী গাড়িতে গাজীপুর থেকে তার রক্তাক্ত লাশ নিয়ে দীন ইসলামের বাড়ির উঠানে ফেলে সবাই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে লাশবাহী একটি গাড়ি আফরোজার রক্তাক্ত লাশ নিয়ে আসে। পরে লাশটি টেনে হেঁচড়ে উঠানে ফেলে গাড়িটি চলে যায়। তার লাশের সঙ্গে স্বামী বা তার বাড়ির লোকজন ছিল না। লাশের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহতের চাচাত বোন শাপলা বেগম বলেন, গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তার স্বামী দীন ইসলাম কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত করেনি। কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, আমরা লাশের সঙ্গে পাঠানো ঢাকা উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করছি, সে কাগজে দাবি করা হয়েছে বিষপানে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা গভীর তদন্ত শুরু করেছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন








