বাসি-দুর্গন্ধযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগ, কেএফসি’র আউটলেট সিলগালা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত মুরগির মাংস পরিবেশনের অভিযোগে ভারতের কর্ণাটকের মেঙ্গালুরুতে কেএফসি’র একটি আউটলেটের গোডাউন সিলগালা করে দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর।
সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে মেঙ্গালুরুতে কেএফসি’র একটি আউটলেটে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট গোডাউন সিলগালা করে দেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি পরীক্ষার জন্য মুরগির মাংসের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
অভিযোগ, ওই কেএফসি আউটলেট থেকে অনলাইনে Chicken Peri Peri Legs অর্ডার করেছিলেন এক গ্রাহক। খাবার হাতে পাওয়ার পর সেটি বাসি এবং দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই খাদ্য সুরক্ষা দফতরে অভিযোগ জানানো হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে আউটলেটের রান্নাঘর, স্টোররুম, কোল্ড স্টোরেজ, ডিপ ফ্রিজার এবং মজুত থাকা ফ্রাইড চিকেন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
ল্যাবরেটরি রিপোর্ট হাতে আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, খাবারে সত্যিই কোনো ধরনের গুণগত সমস্যা বা খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গ হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষার রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুনএই ঘটনার পর কেএফসি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সারা দেশে ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের (FSSAI) নির্দেশিকা এবং বিশ্বমানের গুণমান মেনে চলে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে দাবি করে তারা জানায়, গ্রাহকদের মানসম্মত খাবার পরিবেশন করার জন্য তারা নামী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মুরগি সংগ্রহ করে এবং প্রতিদিন দোকানেই তা প্রস্তুত করা হয়। সরবরাহকারীর খামার থেকে গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে প্রতিটি টুকরো একাধিক কঠোর মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়। এছাড়া, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলেও কেএফসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ম্যাঙ্গালুরুর এই ঘটনার পাশাপাশি সমগ্র কর্ণাটক জুড়েই খাদ্য সুরক্ষা দফতর একাধিক অভিযান চালাচ্ছে। মহীশূর শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে হানা দিয়ে রিও মেরিডিয়ান হোটেল থেকে ৯ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগির মাংস, গ্র্যান্ড মারকারি হোটেল থেকে ৬৮ কেজি মাংস এবং কিউ স্টার হোটেল থেকে ৪ কেজি মাশরুম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তিনটি রিসোর্টে নোটিশ জারি করে ১৬ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচনশীল খাবার ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের রান্নাঘরেও অভিযান চালানো হয়। যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ সুজি, ময়দা, আইসিং সুগার, বেকারি পণ্য, পাউরুটি এবং অন্যান্য কাঁচামাল মজুত থাকার প্রমাণ পান কর্মকর্তারা। এমনকি গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর ফোর সিজনস এবং সাংগ্রি-লার মতো বিলাসবহুল হাসপাতালেও তল্লাশি চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ এবং পচা মাংস উদ্ধার করা হয়, যার জেরে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর।
সূত্র: এনডিটিভি।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
_medium_1786960105.jpg)
_medium_1786954390.jpg)
_medium_1786953266.jpg)
_medium_1786953079.jpg)
_medium_1786950585.jpg)
_medium_1786950107.jpg)
_medium_1786949579.jpg)
_medium_1786952525.jpg)