ভিডিও শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৬ এএম

শনিবার অবসর ও কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

সংগৃহীত, শনিবার অবসর ও কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, অবশেষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের অবসর ও কল্যাণের এই অর্থ পরিশোধে এককালীন ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের পাহাড়সম বকেয়ার জট কাটাতে আমরা যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের স্ব স্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে যাচ্ছি।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ— প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ পরিচালিত হয় আমাদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যেসব শিক্ষক-কর্মচারী তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু দিয়ে আমাদের সন্তানদের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদেরই চরম অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এত বছরের ভেঙে পড়া, তছনছ হয়ে যাওয়া শিক্ষাব্যবস্থা একদিনে জাদুমন্ত্রে পুরো ঘুরে দাঁড়াবে না—এটা আমরা জানি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি সিন্ডিকেট ভেঙে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কঠিন সিদ্ধান্ত ও সঠিক নীতি প্রয়োজন।


দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই অচল অবস্থা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন, তারা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক পরিবার জীবনের শেষ সঞ্চয়টুকু না পেয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটিয়েছেন।

শিক্ষক সমাজের এই চোখের পানি ও দীর্ঘশ্বাস আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমাদের সরকার কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এই অন্যায়ের অবসান ঘটাতে এসেছে।
শিক্ষার প্রসার, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষকবান্ধব নানা উদ্যোগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবসর সুবিধা বোর্ডের সূচনা করেন। তিনি চারজন শিক্ষককে ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা নিজ হাতে প্রদান করে অবসর সুবিধা বোর্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ডের ব্যবস্থা করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূরীকরণ, দুরবস্থা লাঘব এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২’-এর মাধ্যমে তিনি এ অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই অর্থ পাঠানোর উদ্যোগ
মন্ত্রী বলেন, ছাড় হতে যাওয়া ২০৩৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১,৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়েই ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০,১১৯ জন (সত্তর হাজার একশত উনিশ) শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ চার লাখ পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন। এছাড়াও, কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩,২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা পাবেন। এবার কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না। ম্যানুয়াল ফাইলের নামে ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি আমরা উপড়ে ফেলেছি। এখন থেকে iBAS++ এবং EFT-এর মাধ্যমে সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাই করে অর্থ পৌঁছে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নীতিহীন সিদ্ধান্ত এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে গিয়ে পড়েছিল। বিগত আমলে এই দুটি তহবিলের অনিয়ম শিক্ষকদের আমানতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অপব্যবহার ও তছরুপে রূপ নেয়। ভুয়া ইনডেক্স নম্বর তৈরি করে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম করে শিক্ষকদের কষ্টের টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে না রেখে দুর্বল ব্যাংকে রাখা হয়েছিল— যার ফলে সেই টাকা আটকে পড়ে ক্যাশ ফ্লো সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যেন ক্রমান্বয়ে তাদের সকল পাওনা দ্রুততম সময়ে পান, তার জন্য আগামী বাজেটগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এ খাতে বরাদ্দের সংস্থান করা হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন একটি স্বাবলম্বী ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পাওনা বুঝে পান। ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডকে মোট তিন হাজার আটশ কোটি টাকার এবং কল্যাণ ট্রাস্টকে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড প্রদান করা হয়েছে। অবসর ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকতা ফিরিয়ে আনা আমাদের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষকদের শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাদের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শেষ জীবনে শিক্ষকরা হজ করা, নিজের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরই ভরসা রাখেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এই টাকা পেতে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে শিক্ষকসমাজ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শনিবার অবসর ও কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

২ উইকেটেই ২০০ পার, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিলো বাংলাদেশ

অ্যাথলেটিকোতে যোগ দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী তারকা

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিন, জাপান বললো ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’