বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি: মানুষের মাঝে আতংক
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে এ নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৪৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে।
তবে দু একদিনের মধ্যেই পানি স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়।
বগুড়া সারিয়াকান্দিতে গত কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার মথুরাপাড়া পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় এ নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫.৩৩ মিটার। তার পরদিন শুক্রবার পানির উচ্চতা হয়েছে ১৫.৬৬ মিটার। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৩ টায় পানির উচ্চতা হয়েছে ১৫.৮০ মিটার। অর্থাৎ ৪৮ ঘন্টায় পানি ৪৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বা গড়ে প্রতি ঘন্টায় ১ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ উপজেলায় যমুনা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার। অর্থাৎ যমুনা নদীর পানি আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় ৪৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এদিকে যমুনার সাথে বাঙালি নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার এ নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৫৫ মিটার। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বাঙালি নদীর পানির উচ্চতা হয়েছে ১৩.৭৩ মিটার। অর্থাৎ বাঙালি নদীর পানি ২৪ ঘন্টায় ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলায় বাঙালি নদীর পানির বিপৎসীমা ১৫.৪০ মিটার। অর্থাৎ বাঙালি নদীর পানি বিপৎসীমার ১ মিটার ৬৭ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি হওয়ায় যমুনা নদীর ছোটবড় খালবিলগুলো পরিপূর্ণ হয়েছে। অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকার বসবাসকারী চরাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের বাড়িঘরের চারপাশে পানি উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনকেউ কেউ বাড়িঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ বা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু কোথাও আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এদিকে যমুনায় পানিতে টইটুম্বুর হওয়ায় উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের চাপে মুখরিত হয়ে উঠেছে। উপজেলার কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধে গতকাল শুক্রবার এবং শনিবার ছিল পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড়ে। যেন তীল ধারণের যায়গাও ফাঁকা ছিল না। যানবাহনের চাপে উপজেলার পৌর এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের রাজু মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই পানি বাড়তে বাড়তে একেবারে পানি আমার বাড়ির উঠানে চলে এসেছে। তাই বাড়ির জিনিসপত্র গুছানো শুরু করেছি। আর একটু পানি বাড়লেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিতে হবে।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানের ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বগুড়া জেলার নদনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু উজানে পানি কমার খবর পাওয়া গেছে। তাই আশা করা যাচ্ছে পানি আর দু একদিনের মধ্যেই স্থিতিশীল হয়ে কমতে শুরু করবে। এ যাত্রায় বড় কোনও বন্যা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন







