বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি : নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম ৫ আগস্টকে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি এ ভূখণ্ডের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।
বার্তায় তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হয়। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজি শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাবকে তিনি এই দীর্ঘ সংগ্রামের বিভিন্ন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। তবে সেই স্বাধীনতার আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্রিটিশ শাসনের পর বাংলার মানুষ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় এবং দীর্ঘ বৈষম্য, বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে অনেক প্রত্যাশা অপূর্ণ রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একের পর এক সংকট ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে গণতন্ত্র, সুশাসন, সমাজ ও সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুনতিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়। সেই রক্তাক্ত পরিস্থিতি থেকেই বৃহত্তর প্রতিরোধের সূচনা হয়। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে আন্দোলন বিস্তৃত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহিদ ও ৩০ হাজার আহত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্টের বিজয় আসে। তবে তাঁর অভিযোগ, বিজয়ের পরও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতার কারণে শহিদদের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষার পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি। সরকারের দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা দেশকে আবারও সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলনসহ সব গণহত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ, হৃদয় তরুয়াসহ সব শহিদের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







