ভিডিও শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:৫০ পিএম

দেশে আর কখনো স্বৈরাচার ও উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। গৌরবোজ্জ্বল এ অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

 

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় বিজয়ের দিন।

২০২৪ সালের এই দিনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

 

তিনি গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ হাজারো বীর শহীদকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত এবং হাত-পা-চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি গভীর সম্মান ও সহমর্মিতা জানান।

 

আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও বৈষম্যের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম-খুন, দলীয়করণ, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে মানুষের মনে তুষের আগুনের মতো তীব্র ক্ষোভ জ্বলছিল।

দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও কারাগারের দুঃসহ জীবন এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচার দমন-পীড়নের ফলে এই ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও জনবিচ্ছিন্ন করে রাষ্ট্রকে ভঙ্গুর, তাবেদার আর মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তা দ্রুত সর্বব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যেখানে সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন।

জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এমন এক বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্র শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ারও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

বনানীতে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটে স্বর্ণ কেনার চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা

চলতি মাসেই ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনার কেন্দ্রে যাঁরা

ছাত্রদলের উদ্যোগে জবিতে মৌসুমি ফল উৎসবের আয়োজন

জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পরিকল্পিত ভাবে আ. লীগের ইতিহাস দেখানো হয়েছে