ভিডিও বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩০ পিএম

কেন নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর দরকার, বগুড়াবাসী আওয়াজ তুলুন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে মতামত চাওয়ার উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার। কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যায়নের অংশ। যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে আঞ্চলিক ভারসাম্য, পরিচালন দক্ষতা, ব্যয় সাশ্রয় এবং সেবার মান; এই চারটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বগুড়া একটি শক্তিশালী ও যৌক্তিক বিকল্প হিসেবে সামনে আসে।

প্রথমত, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বগুড়ায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন না হওয়া। বগুড়া বিদ্যুৎ ভবনসংলগ্ন ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিদ্যমান থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ বা বড় ধরনের উন্নয়ন ব্যয় ছাড়াই কার্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে না। বিদ্যমান সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার একটি মৌলিক নীতি, আর এই প্রস্তাব সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, পরিচালন ব্যয় কমানোর বাস্তব সুযোগ রয়েছে। নেসকোর কর্মকর্তাদের নিয়মিত ঢাকা, বিভিন্ন জোন, প্রকল্প এলাকা এবং দাপ্তরিক বৈঠকে অংশ নিতে হয়। বগুড়া থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১৯০ কিলোমিটার, যেখানে রাজশাহী থেকে প্রায় ২৫২ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রতিটি সরকারি সফরে প্রায় ৬২ কিলোমিটার কম পথ অতিক্রম করতে হবে। এটি শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই করবে না, বরং সরকারি যানবাহনের ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং কর্মঘণ্টার অপচয়ও কমাবে। দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক সুফল উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধি এই প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। নেসকোর মূল দায়িত্ব উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা। বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম যোগাযোগকেন্দ্র এবং সড়ক যোগাযোগের দিক থেকে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক। এখান থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও জোনে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব। ফলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সমস্যা সমাধান এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে।

চতুর্থত, সিস্টেম লস ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে প্রযুক্তিগত ও অপ্রযুক্তিগত সিস্টেম লস কমানো এবং বিল আদায় বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ের সঙ্গে প্রধান কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকলে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা, মনিটরিং জোরদার করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং সিস্টেম লস হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পঞ্চমত, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে নেসকোর নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। ঢাকার সঙ্গে তুলনামূলক কম দূরত্বের কারণে বগুড়া থেকে এই সমন্বয় দ্রুত ও কম ব্যয়ে করা সম্ভব হবে। এতে জরুরি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াও গতিশীল হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন। বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জাতীয় মহাসড়কের সংযোগ, উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক অবকাঠামো নেসকোর মতো একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বাস্তবভিত্তিক ও জনমুখী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন

সবশেষে বলা যায়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবটি কোনো একক জেলার স্বার্থের বিষয় নয়; বরং এটি ব্যয়-সাশ্রয়, প্রশাসনিক দক্ষতা, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের প্রশ্ন। যদি সরকারের মূল্যায়নে এসব সম্ভাব্য সুফল বাস্তবসম্মত বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে বগুড়ায় প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর নেসকোর কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সুশাসন ও দক্ষ জনসেবার একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
এসব যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে আগামীকাল বগুড়ায় একটি সর্বস্তরের নাগরিক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, কার্যকর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের দাবিতে গণমানুষের শান্তিপূর্ণ এই উদ্যোগ। বগুড়ার উন্নয়ন, উত্তরাঞ্চলের স্বার্থ এবং একটি যৌক্তিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান জানাতে জেলার সর্বস্তরের নাগরিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আপামর জনসাধারণকে মানববন্ধনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

 

লেখক :

কালাম আজাদ

সদস্য, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট 
এবং সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া প্রেসক্লাব

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেন নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর দরকার, বগুড়াবাসী আওয়াজ তুলুন

বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

লোহিত সাগরে সৌদির দুই তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ওতামেন্দি

প্রশ্নফাঁসকারীদের দ্রুত বিচারের ঘোষণা মোদির

ট্রাইব্যুনালে হাজির শহীদ জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর