ভিডিও মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩০ পিএম

বগুড়ার নন্দীগ্রাম হাটে তৈরি হয়েছে নতুন জীবিকার সুযোগ : ব্যস্ত জীবনে মাছ কাটার চাহিদা বাড়ছে

বগুড়ার নন্দীগ্রাম হাটে তৈরি হয়েছে নতুন জীবিকার সুযোগ : ব্যস্ত জীবনে মাছ কাটার চাহিদা বাড়ছে

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : এক সময় বাজার থেকে মাছ কিনে বাড়িতে এনে কাটা ও পরিষ্কার করাই ছিল সাধারণ চিত্র। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কর্মব্যস্ত জীবনে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ব্যাচেলর ও গৃহিণীদের কাছে বাজার থেকেই মাছ কেটে পরিষ্কার করে নেওয়া এখন স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আর এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে বগুড়ার নন্দীগ্রামের হাট, ওমরপুর হাট ও কুন্দার হাটে গড়ে উঠেছে মাছ কাটার একটি সম্ভাবনাময় পেশা। নন্দীগ্রামের হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাছ কাটার কাজে ব্যস্ত থাকেন বেশ কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষ। ক্রেতারা মাছ কিনেই তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাছ পরিষ্কার করে রান্নার উপযোগী করে দিচ্ছেন তারা।

মাছের আকার ও ধরন অনুযায়ী প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেওয়া হয়। প্রতিদিন একজন দক্ষ শ্রমিক ৬০০ থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মাছ কেটে নেওয়ার প্রচলন খুব একটা ছিল না। বর্তমানে কর্মব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ কাটার চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়েছে।

বিশেষ করে ছোট মাছ পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত সময় ও দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় এসব মাছ কাটার পারিশ্রমিক তুলনামূলক বেশি। নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার গুন্দইল গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাস (৭০) এই পেশার একজন প্রবীণ কর্মী। বয়স হলেও আজও নিয়মিত হাটে বসেন। তার পাশে বসেই মাছ পরিষ্কার ও কাটার কাজে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী।

মাছের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, পরিষ্কার করা এবং ক্রেতার কাছে মাছ বুঝিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, মাছ কাটা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, জীবনের বড় একটি অধ্যায়। এই কাজ করেই সংসার চালাচ্ছি, সন্তানদের মানুষ করছি।  তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি।

আগে নন্দীগ্রাম এলাকার বিভিন্ন হাটে শুধু আমিই মাছ কাটতাম। এখন এই পেশায়ও অনেক মানুষ যুক্ত হয়েছেন। একই গ্রামের অজিত দাস (৫০) বলেন, বছর খানেক হলো এই পেশায় এসেছি। আগে অন্য কাজ করতাম। এখন মাছ কেটে যা আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের খরচ ভালোভাবেই চলে। পরিশ্রম আছে, তবে আয়-রোজগার মোটামুটি ভালো।

আরও পড়ুন

হাটে মাছ কিনতে আসা এক নারী চাকরিজীবী বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে বাজার করি। বাড়িতে গিয়ে মাছ কাটার সময় থাকে না। তাই বাজার থেকেই কেটে নিয়ে যাই। এতে সময়ও বাচে, ঝামেলাও কমে। আরেক ক্রেতা জানান, ছোট মাছ পরিষ্কার করা সবচেয়ে ঝামেলার। তাই বাড়তি টাকা লাগলেও বাজার থেকেই কেটে নিয়ে যাই। মাছ কাটার শ্রমিকরা জানান, এই পেশা যেমন পরিশ্রমের, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও।

সারাদিন ধারালো বঁটি ও চাকু দিয়ে কাজ করতে হয়। সামান্য অসাবধান হলেই হাত কেটে যেতে পারে। অনেক সময় সেলাই পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এছাড়া সারাদিন মাছের গন্ধ ও পানির মধ্যে কাজ করতে হয়। শুধু হাটেই নয়, বিয়ে, আকিকা, মিলাদ, ওয়াজ মাহফিল ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্যও তাদের ডাক পড়ে।

নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল বলেন, বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে বাজারে মাছ কেটে দেওয়ার সেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

যারা এই পেশায় নিয়োজিত আছেন, তারা কঠোর পরিশ্রম করে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা যেমন মানুষের সময় বাঁচাচ্ছেন, তেমনি নিজেদের পরিবারের জন্যও নিশ্চিত করছেন দুবেলা অন্নের সংস্থান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার নন্দীগ্রাম হাটে তৈরি হয়েছে নতুন জীবিকার সুযোগ : ব্যস্ত জীবনে মাছ কাটার চাহিদা বাড়ছে

গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ : সারজিস আলম

রংপুরের তারাগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে সবুজ বগুড়া গড়ে তুলুন : বৃক্ষমেলায় সিটি প্রশাসক স্বাধীন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

সংগ্রাম থেকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে: বগুড়ার অনন্যা খাতুনের অনুপ্রেরণার গল্প