ভিডিও মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৭ পিএম

সংগ্রাম থেকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে: বগুড়ার অনন্যা খাতুনের অনুপ্রেরণার গল্প

ছবি: সংগৃহীত, সংগ্রাম থেকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোছাঃ অনন্যা খাতুন

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উজগ্রাম দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের মন্ডল পাড়ার মেয়ে মোছাঃ অনন্যা খাতুন। গ্রামের সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর শৈশব কেটেছে উজগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মা গৃহিনী। এক ভাই এক বোন। বাবার একমাত্র উপার্জনে যখন সংসারে টানাপোড়েন তখন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষাতেও ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। এসব দিয়ে তিনি তার নিজের পড়াশুনার খরচ নিজে চালিয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষক তার দিকে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই হয়তো আজকে তার নতুন পরিচয়। আজ তাদের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ।  তিনি নিজেও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।  তার কাছে এখন কোন শিক্ষার্থী সাহায্যের জন্য গেলে তার মনে পড়ে চরম দুর্দশার সেই দিন গুলো। যখন সহপাঠীরা বিলাসিতা করতো আর তার কাছে জীবনকে অন্য রকমভাবে দেখতে হতো। যেখানে কোন চাওয়া পাওয়া নাই। খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করে এমন ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা নিজের স্বপ্ন পূরন করা।

২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পর তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেও ২০১৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পায়। উচ্চমাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে  হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়েই ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ( স্নাতকে ৩.৯৬ সিজিপি এ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৮০ সিজিপিএ নিয়ে) হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাঁর অসামান্য একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালের জন্য কৃষি অনুষদ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের  (Gold Medal) জন্য মনোনীত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

আরও পড়ুন

এই কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে তিনি হাবিপ্রবির কৃষি অনুষদে প্রভাষক (Lecturer) হিসেবে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, কৃষি অনুষদে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক (Assistant Professor) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায়ও তিনি নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তিনি Ministry of Science and Technology (MoST), Institute of Research and Training (IRT), HSTU থেকে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। তিনি ১৩ টি গবেষণা প্রকাশ করেছেন স্কোপাস ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে।

তাঁর সেই গবেষণার স্বপ্ন এবার আরো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত The University of Queensland (UQ)- (QS ranking 42 in the world) এ পূর্ণ অর্থায়নে (Fully Funded Scholarship) পিএইচডি গবেষণার সুযোগ অর্জন করেছেন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্যও একটি গর্বের বিষয়।
নিজের এই অর্জন সম্পর্কে অনন্যা খাতুন বলেন, ‘আমি কখনো স্বপ্নকে ছোটকরে দেখিনি।  স্বপ্ন আকাশ ছোয়া দেখতে হয় এবং সেই স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য নিজেকে৷ sacrifice করতে হয়। মহান আল্লাহ্ আমার সকল স্বপ্ন কে আমার মতো করে পূরণ করেছেন।  আলহামদুলিল্লাহ্। গত ১৫ জুলাই আমি Australian E-visa পেয়েছি। সব কিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরে পিএইচডি র উদ্দেশ্য অস্ট্রেলিয়া যাব ইনশাআল্লাহ্। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং পরিবারের অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি চাই আমার গবেষণার মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে, আমার শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার বিস্তার এবং দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখতে। সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংগ্রাম থেকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে: বগুড়ার অনন্যা খাতুনের অনুপ্রেরণার গল্প

বগুড়ার শেরপুরে খাল খনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে কৃষক

জীবন ও অভিনয়ের গল্প শোনাবেন ফেরদৌসী মজুমদার

পুলিশে বড় রদবদল

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেবে জামায়াত

২৪ ঘণ্টায় হামে প্রাণ গেল আরো ৪ শিশুর