মারা গেছেন আর্জেন্টিনার আলোচিত কিংবদন্তি ফুটবলার
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান ঘটল আন্তোনিও উবালদো রাট্টিনের মৃত্যুতে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি মিডফিল্ডার শনিবার (১১ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্টাইন জায়ান্ট বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হন রাট্টিন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে মূল দলে অভিষেক হয় তার। এরপর টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। বোকার হয়ে ৩৮২টি ম্যাচ খেলেছেন রাট্টিন এবং প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ শিরোপার পাশাপাশি ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা জয় করে।
জাতীয় দলের জার্সিতেও রাট্টিন ছিলেন নির্ভরযোগ্য এক নাম। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল বিশ্বকাপে এবং তিনটি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের হয়ে একটি গোলও করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুনতবে ফুটবল ইতিহাসে রাট্টিন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। সে সময় ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রচলন ছিল না। রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাট্টিন প্রায় ১০ মিনিট মাঠেই অবস্থান করেন। মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা চেপে ধরা এবং রাজকীয় অতিথিদের জন্য রাখা লাল কার্পেটে বসে পড়ার ঘটনাও ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাট্টিনের ওই ঘটনাসহ মাঠে ভাষাগত বিভ্রান্তির কারণে খেলোয়াড়দের সতর্ক করা ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্টভাবে জানানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের প্রথা চালু হয়।
‘এল রাতা’ ডাকনামে পরিচিত রাট্টিন দৃঢ় নেতৃত্ব, লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে অসাধারণ দক্ষতার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার প্রয়াণে ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মন্তব্য করুন









