সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় কৃষক মোখলেছুরের তাওয়া কেন্দ্রিক নদী পারাপারে জীবন জীবিকা
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের পূর্ব সাতবাড়িয়া গ্রামের করতোয়া নদীর পূর্বপাড়ের ৪৫ বছর বয়স্ক বাসিন্দা কৃষক মোখলেছুর রহমান। নদী আর চরের জমির উপর নির্ভর করে অতিবাহিত হয় মোখলেছুরের জীবন জীবিকা। বাড়িতে ধান সিদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত টিনের তৈরি তাওয়ায় করে তিনি প্রতিদিন অতি সাবধানে বৈঠা বেয়ে নদী পারাপার হন।
স্থানীয় লোকজন ও এখানে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা বেশ কৌতুহল নিয়ে মোখলেসুরের নদী পারাপারের এই অপূর্ব দৃশ্য দেখেন। পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী ও আরও ২ ছেলে ১ মেয়ে। পাঁচ জনের সংসারে খাবার ও কাপড়-চোপড় জোগানো এই দুর্মূল্যের বাজারে খুবই কষ্টকর। মাঝে মাঝে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করেন তিনি। তারপরেও টানা পড়েন সব সময়ই তার সংসারে।
সরেজমিনে নদীপাড়ে দেখা যায়, ধান সিদ্ধ করার টিনের তাওয়ায় বসে অপূর্ব কৌশলে বৈঠা বেয়ে নদী পার হচ্ছেন কৃষক মোখলেছুর। বেশ ঝুঁকি নিয়েই এভাবে পার হতে হয় তাকে। মোখলেছুর বললেন, নদীর পশ্চিম প্রান্তে জেগে ওঠা দাদার সম্পত্তির বিঘা দেড়েক অংশ বেশ কয়েক বছর তিনি চাষাবাদ করে আসছেন। এই চরে বছরে একবার বোরো ধান হয় এবং শীতের মৌসুমে শাক সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষ করেন। বর্ষায় চর জেগে থাকলে কিছু বর্ষাকালীন শবজি অথবা পাটের চাষ করতে পারি। এজন্য প্রতিদিন তাকে ৩-৪ বার করে করতোয়া নদী পার হতে হয়।
আরও পড়ুনএতে অন্তত ৩০-৪০ টাকা নদীপারের জন্য প্রয়োজন। এই টাকার দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি ঝুঁকি নিয়ে তার ধান সিদ্ধ করার টিনের তৈরি তাওয়ায় চেপে পারাপার হন। বাতাস থাকলে নদীতে ঢেউ ওঠে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয় নদীতে তাওয়া চালাতে হয়। তারপরেও টাকার অভাবে এভাবেই বার বার তার নিজস্ব ব্যবস্থায় করতোয়া পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় আব্দুল মান্নান জানান, মোখলেসুরের অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। কিন্তু সে যেমন সত্যবাদী তেমনই স্বচ্ছ। অনেক কর্মঠ এবং উদ্যোমী। এক সময়ে করতোয়া নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া জমির কিছু অংশ আবারও চর হিসেবে জেগে উঠেছে। সেখানেই অনেক কষ্ট করে বছরের কিছু সময় ফসল ও শাক সবজি চাষ করে কোন মতে সংসার চালায়। কিন্তু কারও কাছে কখনও হাত পাতে না। সবাই মোখলেসুরকে খুব ভালোবাসে।
মন্তব্য করুন







