ভিডিও শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০২৬ ০১:০১ এএম

মধুপুর গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় পাঁচ রোপওয়ে করিডোর

ছবি : সংগৃহীত, মধুপুর গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় পাঁচ রোপওয়ে করিডোর

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর গড়াঞ্চলের পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর অংশে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ জানায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে রাস্তার দুই পাশের উঁচু গাছের সঙ্গে বিশেষভাবে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে এসব রোপওয়ে করিডোর তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণী মাটিতে না নেমেই বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

বন্যপ্রাণী গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণী। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন বাংলা লজ্জাবতী বানরের উপস্থিতিও এ শালবনে শনাক্ত হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ক নির্মাণের ফলে মধুপুর গড়াঞ্চলের বনভূমি খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্য সংগ্রহ বা বিচরণের সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছিল।

আরও পড়ুন

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্যপ্রাণীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের রোপওয়ে করিডোর সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ‘মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প’-এর আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাণীদের এসব করিডোর ব্যবহার করে চলাচলের ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সফল হলে বনাঞ্চলের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও একই ধরনের করিডোর নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। রোপওয়ে করিডোর চালুর ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হচ্ছে। প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের পর সড়কে বন্যপ্রাণী পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দল ভারি করতে আ.লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না: জামায়াত আমির

আমের ক্যারেটে অভিনব কৌশলে ৩৭৭ বোতল ফেয়ারডিল, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি যাচ্ছেন এরদোয়ান

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক : আইনমন্ত্রী

স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী