রাজশাহীতে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
রাজশাহী প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই রাজশাহী নগরীতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে এডিস মশার প্রজনন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা যায়, নগরীর এডিস প্রজনন সূচক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত উচ্চ ঝুঁকির সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। ফলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত নজরদারিতে দেখা যাচ্ছে, নগরীতে এডিস মশার লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বৃষ্টিপাত বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ৫ জুন হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যায় দেড় বছর বয়সী শিশু তাইবা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে এক শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, নিজেদের সুরক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সেখানে স্প্রে করতে হবে।
রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা উচিত। এসব স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চললে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে নিজেদের, পরিবারকে এবং সমাজকে নিরাপদ রাখতে পারব।
আরও পড়ুনএদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ফগার মেশিনে কীটনাশক স্প্রে ও লার্ভিসাইড প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। উপশহর মোড়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মশক নিয়ন্ত্রণে এরইমধ্যে আমরা দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ফগার মেশিনে স্প্রে কার্যক্রম শেষ করেছি। এর আগে আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক র্যালি করেছি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আমরা এরইমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার, মশকনাশক ও লার্ভানাশক স্প্রে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বর দেখা দিলে ডেঙ্গু এনএস১ (NSI1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন







