ভিডিও বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০১ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৩৫ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের কপালে ভাঁজ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের কপালে ভাঁজ, ছবি: সংগৃহীত।

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গ্রাহকরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, কারও মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের তথ্যের মিল নেই, আবার কারও আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি বিল এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে তেমন পরিবর্তন না থাকলেও বিল বেড়ে যাওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 

বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের আওতায় ৩৫ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। চলতি মাসে ওই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন তারা। 

উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুর রহমান বলেন, গত ১১ জুন তার বাড়ির বিদ্যুৎ মিটারের রিডিং নেওয়া হয় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিট। কিন্তু ২৩ জুন তিনি নিজে মিটার পরীক্ষা করে দেখেন, রিডিং ৪ হাজার ৫৯৭ ইউনিট। অর্থাৎ বর্তমান রিডিং পূর্বে নেওয়া রিডিংয়ের চেয়ে কম। এরপরও জুন মাসের বিলে অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। মাহাবুর রহমান বলেন, ১১ জুনের পর যদি মিটারের রিডিং বাড়ার পরিবর্তে কম দেখা যায়, তাহলে অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি হলো কীভাবে? বিষয়টি তদন্ত করা দরকার। 

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উপজেলার বিহারকোল বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সেবক কুন্ডু। তিনি বলেন, দোকানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না এলেও এবার তার বিল এসেছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। আগের মাসে একই ধরনের ব্যবহারে বিল ছিল প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টাকা। সেবক কুন্ডু বলেন, দোকানে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র লাগাইনি। ব্যবহারও আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এর কারণ বুঝতে পারছি না।

উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, আগে প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে থাকত। এবার বিল এসেছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবহার তো বাড়েনি। তাহলে বিল এত বেশি কেন? প্রশ্ন তার। 

আরও পড়ুন

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় সব এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। কেউ মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের তথ্যের অমিলের কথা বলছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় অস্বাভাবিক বিল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। তবে এসব অভিযোগের সংখ্যা কত বা কতজন গ্রাহক এতে প্রভাবিত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার হেলালুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমে অনেকের বিদ্যুৎ ব্যবহারও বেড়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের বিলে প্রকৃতপক্ষে ভুল থাকলে তিনি অভিযোগ নিয়ে অফিসে এলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। 

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, যেসব বিলে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ভুল বিল সংশোধন এবং ভবিষ্যতে সঠিক মিটার রিডিং নিশ্চিত করে স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা চালুরও দাবি তাদের।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাটোরের বাগাতিপাড়ার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের কপালে ভাঁজ

স্পাইডারম্যানের নতুন টিজারে মেসি

সংগীতশিল্পী থেকে মুগ্ধ এখন বিসিএস ক্যাডার

নতুন তিনটি উপজেলা ও একটি থানার অনুমোদন

`হাসানুল হক ইনুর রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি'

নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ ছাড়লেন কোম্যান