গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৬
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৬জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে জুনদহ বাজারে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে মিমাংসিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগ্নে কাকন ও নিরন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের ছাত্র আল আমিনকে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, বরিশাল কল্যাণ ফেডারশনের সভাপতি আশরাফুল, শিবিরের সাবেক সভাপতিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৬জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আশরাফুল ইসলাম, মিল্লাত সরকার মিলন ও শামিম রেজা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুনএদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে উভয়পক্ষের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো জুনদহ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত তৎপরতা চালাচ্ছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারী আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন









