ইউরোপের ভাইকিংদের সামনে চোখ রাঙাচ্ছে আফ্রিকান ‘হাতি’
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ডামাডোল বেজে উঠেছে। শেষ ৩২-এর সমীকরণে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামের দিকে। আজ মঙ্গলবার রাত ১১টায় যেখানে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আইভরি কোস্ট এবং ইউরোপের ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ে। এই ম্যাচটি কেবল শেষ ১৬-তে ওঠার লড়াই নয়, এটি মূলত আইভরি কোস্টের জমাট রক্ষণ ও দলীয় সংহতির সামনে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২৩তম দল নরওয়ের শক্তিমত্তার এক চরম অগ্নিপরীক্ষা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৩০তম দল আইভরি কোস্টের ফুটবলে ইমার্স ফায়ে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছেন। গ্রুপ ‘ই’-তে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে ‘লেস এলিফ্যান্টস’। গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় দুর্দান্ত ও লড়াকু। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। ফ্রাঙ্ক কেসিয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ডেনিজ উনডাভের ম্যাজিকে ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। তবে ভেঙে না পড়ে শেষ ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় ফায়ের দল। বিগত ৫ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে ক্লিন শিট রাখা আইভরি কোস্ট প্রমাণ করেছে যে, তাদের রক্ষণভাগ যেকোনো বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেই বাজিমাত করেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে আসা দলটি গ্রুপ ‘আই’-তে ফ্রান্সের পেছনে থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। আর ভাইকিংদের এই রূপকথার একমাত্র কাণ্ডারি তাদের ২৫ বছর বয়সি গোলমেশিন আর্লিং হ্যালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার চলতি টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা এই তারকার ওপর নরওয়ে কতটা নির্ভরশীল, তা স্পষ্ট হয়ে যায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যালান্ডকে বিশ্রামে রাখতেই ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় স্টেল সলবাকেনের দল।
তবে নরওয়ের দুর্বল ডিফেন্সের বিপরীতে তাদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো হ্যালান্ডের অতিমানবীয় ফিনিশিং। ডি-বক্সের ভেতর সামান্যতম সুযোগ পেলেও তা গোলে পরিণত করতে সিদ্ধহস্ত। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ওউসমানে দিওমান্দে এবং ওডিলন কসউনুর জন্য পুরো ৯০ মিনিট হ্যালান্ডকে মার্ক করে রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুনএই ম্যাচটিতে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেভারিট বলার সুযোগ নেই। একদিকে আইভরি কোস্টের গতি ও ভারসাম্যপূর্ণ দল, অন্যদিকে নরওয়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তবে নকআউটের মতো স্নায়ুচাপের ম্যাচে অনেক সময় একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। ফুটবল পণ্ডিতদের ধারণা, আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগ নরওয়ের ডিফেন্স ভেঙে গোল করতে পারলেও, শেষ মুহূর্তে হ্যালান্ডের একক নৈপুণ্য নরওয়েকে জয় এনে দিতে পারে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান
নরওয়ে ২৩
আইভরি কোস্ট ৩০
মুখোমুখি লড়াই ০
মন্তব্য করুন









