মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার পাথরঘাটা সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১১০ নম্বর মেইন পিলারের কাছ থেকে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফ সদস্যরা ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবি ও গ্রামবাসীর কঠোর বাধার মুখে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকেই তাদের ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হয় তারা।
আরও পড়ুন
এদিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সীমান্তে সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভারতের গান্ধিনা ফুলবাড়ি ক্যাম্পের গেট খুলে বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৪৬ নম্বর পিলারের ৭ নম্বর সাব-পিলারের কাছে অবস্থান নিলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। বর্তমানে কাঁটাতারের ওপারে বিএসএফের টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, মেহেরপুর সীমান্তে চলতি জুন মাসে বিএসএফের পুশইনের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্তে ৪ জন, ২৫ জুন গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্তে ৭ জন, ধলা সীমান্তে ৩ জন এবং কাজীপুর সীমান্তে ২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই বিজিবির কঠোর তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়।