এমবাপের জোড়া গোলে সেনেগাল বাধা পেরিয়ে ফ্রান্সের দুর্দান্ত জয়
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে ২৪ বছর আগের দুঃস্বপ্নের প্রতিশোধ নিল ফ্রান্স। প্রথমার্ধে সেনেগালের দাপটে চাপে থাকলেও বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে দিদিয়ে দেশমের দল। ম্যাচের নায়ক কিলিয়ান এমবাপে, জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে তারা ফ্রান্সকে চাপে রাখে। অন্যদিকে ফরাসিরা প্রথম ২০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।
২৫তম মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল সেনেগাল। ডিওফের অসাধারণ থ্রু পাস থেকে একা এগিয়ে গিয়ে কঠিন কোণ থেকে শট নেন নিকোলাস জ্যাকসন। বলটি পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানের গায়ে আঘাত করে কর্নারের বিনিময়ে বাইরে চলে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় ফ্রান্স।
৪০তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন সাদিও মানে। তবে তার শট সহজেই তালুবন্দি করেন মাইগনান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও বক্সের মধ্যে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিলেন মানে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ হতে হয় সেনেগালকে। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন সম্পূর্ণ বদলে যায় ফ্রান্স। বিরতির পর থেকেই একের পর এক আক্রমণে সেনেগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। ৪৮তম মিনিটে দায়ো উপামেকানোর দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৫৪তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক এদোয়ার্দ মেন্ডিকে পরাস্ত করার চেষ্টা করলেও অসাধারণ সেভে দলকে রক্ষা করেন সেনেগালের গোলরক্ষক। চার মিনিট পর কিলিয়ান এমবাপ্পেও ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে মেন্ডিকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন।
অবশেষে ৬৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। ওলিসের নিখুঁত পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে বল জালের বাঁ দিকের নিচের কোণে পাঠিয়ে দেন এমবাপে। গোলরক্ষক মেন্ডির কোনো সুযোগ ছিল না। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসিরা।
আরও পড়ুনগোল হজমের মাত্র দুই মিনিট পরই সমতায় ফিরেছিল বলে মনে করেছিল সেনেগাল। নিকোলাস জ্যাকসন দারুণ এক শটে বল জালে পাঠিয়ে উদযাপনও শুরু করেছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, সামান্য এগিয়ে থাকায় গোলটি বাতিল করা হয়।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফ্রান্স। ৮২তম মিনিটে আদ্রিয়ান রাবিওর দারুণ পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইব্রাহিম এমবায়ের জোরালো শটে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় সেনেগাল। তবে সেই আশা মাত্র এক মিনিটই টিকে ছিল।
ইনজুরি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আবারও জাল কাঁপান এমবাপে। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দাপুটে পারফরম্যান্সে সেনেগালের প্রতিরোধ ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল ইউরোপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দলটি।
মন্তব্য করুন






