ভিডিও বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১০ জুন, ২০২৬ ০৮:১০ পিএম

অতিরিক্ত ভালোবাসায় ভাঙছে সম্পর্ক

অতিরিক্ত ভালোবাসায় ভাঙছে সম্পর্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ভালোবাসার সম্পর্ক বাইরে থেকে যতই সুন্দর আর নিখুঁত মনে হোক না কেন, ভেতরে কখনো কখনো এমন কিছু জটিলতা তৈরি হয় যা সহজে বোঝা যায় না। সঙ্গীকে ভীষণ ভালোবাসেন, সেও আপনাকে সমানভাবে ভালোবাসে। ছোটখাটো আনন্দ, দুঃখ, সিদ্ধান্ত সবই একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

তবুও হঠাৎ করে সম্পর্কের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। একজন মানুষ ধীরে ধীরে একটু দূরত্ব চাইতে শুরু করে, একা থাকতে চায়, কিংবা বেশি কাছে থাকলে অস্বস্তি অনুভব করে। এই অবস্থাকে অনেক সময় ভুলভাবে রেড ফ্ল্যাগ ভেবে নেওয়া হয়, কিন্তু সবসময় বিষয়টা তেমন নয়। এর পেছনে থাকতে পারে একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা। যাকে এনমেশমেন্ট বলা হয়।

 

এনমেশমেন্ট কীভাবে বোঝা যায়

এনমেশমেন্ট হলো এমন এক ধরনের সম্পর্ক যেখানে দুইজন মানুষের ব্যক্তিগত সীমারেখা বা বাউন্ডারি প্রায় মুছে যায়। সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে যে আমি এবং তুমি আলাদা করে চিন্তা করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সব সিদ্ধান্ত, অনুভূতি, এমনকি দৈনন্দিন ছোট ছোট বিষয়েও একে অপরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়। শুরুতে এটি খুব ঘনিষ্ঠ ও সুন্দর মনে হলেও সময়ের সঙ্গে এটি মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কের ভেতরে অদৃশ্য চাপ

এই ধরনের সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্পেস ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। একা সময় কাটানোকে অপরাধবোধ হিসেবে দেখা হয়, নিজের পছন্দ বা সিদ্ধান্ত অনেক সময় সঙ্গীর প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। কেউ যদি নিজের মতো কিছু করতে চায়, তখন অন্যজন কষ্ট পেতে পারে, এই ভয় কাজ করে। ফলে অনেকেই নিজের সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশ না করে মানিয়ে চলতে শুরু করেন, যা সম্পর্কের ভেতরে চাপা দূরত্ব তৈরি করে।

যে কারণে অস্বস্তি তৈরি হয়

আরও পড়ুন

এনমেশমেন্টে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। একজন মানুষ যখন নিজের পরিচয়ের চেয়ে সম্পর্কের পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে, তখন ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়। সবসময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে থাকতে স্বাধীনতার প্রয়োজন অনুভব হলেও সেটি প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্ব থেকেই সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি জন্ম নেয়।

কথা বললেই কি সব ঠিক হয়ে যায়

অনেকে মনে করেন, খোলামেলা কথা বললেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এনমেশমেন্টের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। কারণ এখানে দুইজনই একে অপরের প্রতি মানসিকভাবে অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে একজন যদি স্পেস চাইতে শুরু করে, অন্যজন সেটিকে দূরত্ব বা প্রত্যাখ্যান হিসেবে নিতে পারে। এতে সম্পর্কের ভেতরে ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

সম্পর্ক ঠিক রাখতে করণীয়

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যকর সীমারেখা তৈরি করা। সম্পর্কের ভেতরে থেকেও ব্যক্তিগত জীবন, সময় ও চিন্তাভাবনার আলাদা জায়গা রাখা জরুরি। ভালোবাসা মানে সবসময় একসঙ্গে থাকা নয়, বরং একে অপরকে আলাদা মানুষ হিসেবে সম্মান করা। ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্পেসকে গুরুত্ব দিলে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

ভালোবাসা তখনই সুন্দর হয় যখন সেখানে শ্বাস নেওয়ার জায়গা থাকে। এনমেশমেন্ট অনেক সময় অজান্তেই তৈরি হয়, কিন্তু সেটি বুঝতে পারলে সম্পর্ককে আরও স্বাস্থ্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ভালোবাসার পাশাপাশি যদি বোঝাপড়া, সম্মান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকে, তাহলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অতিরিক্ত ভালোবাসায় ভাঙছে সম্পর্ক

উত্তরা ইউনিভার্সিটির বাস উল্টে ৩০ শিক্ষার্থী আহত

লিচুর রঙে রঙিন ঈশ্বরদী

সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যায় মামলা গ্রেফতার ৩

চলচ্চিত্রে ৫৫ বছর পেরিয়ে নূতন

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা