৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম
নেসকো’র প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন
শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়ায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো)’র প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে মহানগরের সাতমাথায়। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন নেসকো কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন লাইজু। প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ওয়াদুদ।মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন-নেসকো কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আলী দেওয়ান, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সোলেইমান আলী, মহানগর শ্রমিক দল আহব্বায়ক মো. নুরুল হুদা, মহানগর বিএনপি নেতা আবুবক্কর সিদ্দিক বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক, ছাত্র, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।
নেসকো কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি সোহরাব হোসেন লাইজু তার বক্তব্যে বলেন, গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে ও অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে বর্তমান সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নেসকো’র কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু কিছু অসাধু চক্র তাদের নিজের সুবিধা বজায় রাখতে কার্যালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় গড়িমসি করছেন। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নেসকো’র কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেবেন বলে জানান এই শ্রমিক নেতা।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ও দেশের স্বার্থে রাজশাহী হতে নেসকো’র অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় দ্রুত বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন, বগুড়া জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা ছাড়াও নেসকো’র কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ত্বরাণিত হবে। স্থানীয়সহ আশেপাশের জেলাগুলোর বেকার যুবকদের নানা কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে। প্রধান কার্যালয়ের দূরত্ব ও যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনায় বগুড়ায় স্থানান্তর ব্যতিত আর কোন বিকল্প নেই।
আরও পড়ুনমানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, যেকোন দাপ্তরিক কাজের সমাধানে রাজশাহীতে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রাজশাহীতে যেতে হয়। উত্তরাঞ্চলের ১৬টিসহ আশেপাশের জেলাগুলোর মধ্যবর্তী সুবিধাজনক জায়গা হলো বগুড়া। বগুড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণের দেখভাল করার এই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়টি স্থানান্তর হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মঘন্টা অপচয় হবে না, এতে করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত হবে। দূর হবে দাপ্তরিক জটিলতা ও বৈষম্য। এছাড়াও গ্রাহকদের নানা সেবা নিশ্চিতের পথও সুগম হবে জানান, শ্রমিক নেতা ও মানবন্ধনে অংশ নেয়া বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নেসকো’র ৫১তম বোর্ড সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী প্রধান কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
মন্তব্য করুন









