মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে চাকরি হারালেন পিতা, ২৬ বছর ধরে মানবেতর জীবন
স্টাফ রিপোর্টার : সরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সাময়িক বরখাস্ত ও মামলার জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন বগুড়ার গাবতলীর এক হতভাগ্য পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক উক্ত অফিসের সহকারী তহশীলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্ট এবং রোগে-শোকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে আব্দুল মালেকের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মাকসুদা আকতার মালা সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত হলে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি তৎকালীন থানা নির্বাহী অফিসার (যিনি সহকারী কমিশনার-ভূমি’র অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন) বরাবর একটি ছুটির আবেদন জমা দেন। এরপর তিনি মেয়েকে নিয়ে রংপুর ও সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে ছুটে বেড়ান।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার মানবিক আবেদনটি বিবেচনা না করে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখিয়ে তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করে। সরকারি বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন প্রাপ্য খোরপোষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আব্দুল মালেককে দেওয়া হয়নি। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও ২৬ বছরেও তা মেলেনি। উল্টো তার অনুপস্থিতিকালীন সময়ের ভূমি উন্নয়ন করের ৩৮,১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এই বিষয়ে তাকে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা (মামলা নং-২৫/২০১৬) দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুনজানা যায় ,গত ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও বাদী বা কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। ভুক্তভোগী জানান, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে বাদীপক্ষ আদালতে অনুপস্থিত থাকছে, যার ফলে মামলাটি ঝুলে রয়েছে এবং তিনি আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে আব্দুল মালেকের মেয়ে মাকসুদা মালা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছেন এবং তার পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে আব্দুল মালেক এখন নিঃস্ব। ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক (যার স্থায়ী নিবাস বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী গ্রামে) এই দীর্ঘস্থায়ী অন্যায়ের অবসান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও প্রতিকার প্রার্থনা করেছেন।
মন্তব্য করুন




_medium_1780838513.jpg)



