ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৪ জুন, ২০২৬, ১০:০৯ রাত

বগুড়াসহ উত্তারঞ্চলের চার জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১০

ছবি: সংগৃহীত, বগুড়াসহ উত্তারঞ্চলের চার জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার আদমদিঘী, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় বজ্রপাতে মা- ছেলেসহ ১০ জন মারা গেছে। 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় এক রাখাল, দুই গৃহবধূ, এক কিশোর এবং এক কিশোরীসহ ৬জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে জেলায় বজ্রসহ হালকা ঝড়বৃষ্টির সময় এই ব্রজ্যপাতের ঘটনা ঘটে।  
নিহতরা হলো সদরের আতাহার গ্রামের মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জের চককীর্তি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চকনরেন্দ্র গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী এবং শিবগঞ্জের গোয়াবাড়ি গ্রামের এজাবুল আলীর মেয়ে মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের ৯নং রানীবাড়ি বাজারপাড়া গ্রামের মো. কাশেমের মেয়ে সাদিয়া (১৬), শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. ফিটুর ছেলে মেসবাহুল ওরফে মেসবাবাবুর (১৪) , নাচোলের ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের লাহাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমিয়ারা বেগম (৪০) ও নেজামপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে হাাসান আলী লালু(২১)। ।

এদিকে, নাচোলের ঘটনায় আহত হয়েছেন লাবাড়ি গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬) নামে এক ব্যক্তি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, বিকেলে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন আবদুল্লাহ। তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিকেলে বাড়ির কাছে আমবাগানে বজ্রপাতে নিহত হন মাহমুদা। অপরদিকে প্রায় একই সময় সাদিয়াও বাড়ির কাছে আমবাগানে মারা যান। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু মিয়াও ঘটনা দু’টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া বিকেলে বাড়ির অদূরে মোবারকপুরের শিকারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে বজ্রপাতে নিহত হয় কিশোর মেসবাবুল। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক আনসারী ও ইউপি সদস্য জাহির আলিও ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফেরার পথে বজ্রপাতে নিহত হন দু’সন্তানের জননী সুমিয়ারা। একই সময় আহত হন জিয়াউর। সংশ্লিস্ট ইউপি সদস্য আব্দুস সবুর ও গ্রাম পুলিশ নকিব হোসেনও ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে,সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাঘাটায় ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা দাসপাড়ায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় ঝড় বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, মান্দুরা দাসপাড়ার শ্রীমতি কল্পনা রাণী(৫৫) এবং তার ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে থাকা জ্বালানি কাঠ ঘরে তোলার জন্য মা ও ছেলে বাইরে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল কবির, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং দুই প্যাকেট শুকনা খাবার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই পরিবারের মা ও ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিচের জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মা মনিকা বেগম (৪০) আহত হন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তেতুঁলিয়া দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। রাব্বি হোসেন উপজেলার তেতুঁলিয়া গ্রামের আপাল প্রামানিকের ছেলে।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘির তেতুঁলিয়া গ্রামের আপাল প্রামানিক গ্রামের দক্ষিন মাঠে মরিচের আবাদ করছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বৃষ্টি নামলে আপাল হোসেনের স্ত্রী মনিকা বেগম তার ছেলে রাব্বি হোসেন মরিচের জমি দেখার জন্য যায়। এসময় মেঘের গর্জনে তারা জমি থেকে তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু পথে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই রাব্বি হোসেন মারা যান ও তার মা মনিকা বেগম আহত হন। বিষয়টি পাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাব্বি হোসেনকে মৃত ঘোষনা করেন । সেইসাথে তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি জানান, পাঁচবিবিতে মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সামছুদ্দিন  (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে  উপজেলার কুসুম্বা  ইউনিয়নের কুয়াতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামছুদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে কুয়াতপুর গ্রাম সংলগ্ন মাঠে সামছুদ্দিন ধান কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে সামছুদ্দিন ও তার মেয়ে হুমায়রা খাতুন পার্শ্ববর্তী রাস্তার ধারে এন্ট্রি কড়ই গাছের নিচে আশ্রয় নেন এবং বজ্রপাতে সামছুদ্দিন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা  তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (মহিপুর) নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়াসহ উত্তারঞ্চলের চার জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১০

আইন সংস্কারের পাশাপাশি সচেতনতা ও যৌন শিক্ষা জরুরি: উমামা ফাতেমা

রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নাটোরের আসমা শাহীন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে এনসিপির বিক্ষোভ

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পাঁচ ডিআইজি

মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে