বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক স্বাধীন
হকারের টাকা খাওয়ার দরকার নেই, ভালো হয়ে যান
স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও প্রায় দেড়শ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বগুড়া পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশনে উন্নিত করার পর, এর নাগরিক সেবা আধুনিকায়নের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের কার্যভার বুঝে নেয়ার পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভায় প্রশাসক শহরের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেন। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আবশ্যিকভাবে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত হতে হবে।
সময়ের ব্যাপারে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না। বগুড়াকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও পরিচ্ছন্ন মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো বগুড়াকে একটি সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা। শহর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠলে, নাগরিক শৃঙ্খলা ফিরলে এটি এমনিতেই সুন্দর হবে। এরপর ধাপে ধাপে এটিকে আধুনিক ও তিলোত্তমা মহানগরীতে রূপান্তর করা হবে। আর এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রথম দিনের এই মতবিনিময়কালেই নগরের তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ ফুটপাত দখল নিয়ে কথা বলেন প্রশাসক। শহরের ফুটপাতগুলোকে অবিলম্বে হকারমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে হকারদের কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ও অবৈধ চর্চার সঙ্গে জড়িত আছেন, তারা অতিদ্রুত এসব রাস্তা থেকে বেরিয়ে আসুন। সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন করুন।’
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী বা মাস্টার রোলভুক্ত তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এক বড় সুখবর দিয়েছেন নতুন প্রশাসক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সকল অস্থায়ী কর্মচারীকে বিশেষ ঈদ বোনাস প্রদান করা হবে। এর আগে গতকাল দুপুরে এম আর ইসলাম স্বাধীন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ভবনে এসে পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, বিলুপ্ত বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহেদুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র দাস, তৌহিদুর রহমান বিটু, নিলুফা কুদ্দুসসহ বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আরও পড়ুনগতকাল দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিদায়ী প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা জানান, কার্যভার গ্রহণের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় নতুন প্রশাসককে শহরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নাগরিক সেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
সভায় মহানগরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। রাজিয়া সুলতানা উল্লেখ করেন, বিশাল এই মহানগরের বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য বর্তমানে মাত্র একটি হাইড্রোলিক ট্রাক রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এই সংকট দূর করতে এবং পরিচ্ছন্ন মহানগরী গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের ২১টি ওয়ার্ডের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২১টি নতুন হাইড্রোলিক ট্রাক কেনার একটি প্রস্তাব নতুন প্রশাসকের কাছে পেশ করা হয়েছে।
প্রায় দেড়শ’ বছরের প্রাচীন বগুড়া পৌরসভাকে গত ২০ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়। এরপর ১৪ মে গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং ১৯ মে বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন



_medium_1779372217.jpg)



