পাবনার বেড়ায় গরুর আবাসিক হোটেল
আবুল কালাম আজাদ, বেড়া (পাবনা): কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে পাবনার বেড়া পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী করমজা চতুরহাটেও বাড়তে শুরু করেছে গবাদিপশুর কেনাবেচা। পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা কোলঘাট, ডাকবাংলো ঘাট, মহনগঞ্জ ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘গরুর আবাসিক হোটেল’ বা স্থানীয় ভাষায় খাটাল বা গোয়াল।
দূরদূরান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীদের জন্য এসব খাটাল নিরাপদ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার পাবনার বেড়া পৌর এলাকার করমজা চতুরহাটে পশুর হাট বসে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দিনেও হাট আয়োজন করা হয়। হাটকে ঘিরে বেড়া পৌর এলাকার ডাকবাংলো মহল্লার ঘাটসংলগ্ন এলাকায় কয়েক বছর আগে গড়ে ওঠে গরুর আবাসিক হোটেল বা খাটাল। সময়ের সাথে এর পরিধি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১০টি খাটাল রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নৌপথে গরু পরিবহনের ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক কম হয় এবং গরুর ওপর শারীরিক চাপও কিছুটা কম পড়ে। এছাড়া একসাথে অনেক গরু পরিবহন করা সম্ভব হয়। এই কারণে ব্যবসায়ীরা হাট থেকে গরু কিনে কয়েকদিন খাটালে রেখে বিশ্রাম ও পরিচর্যা করানোর পর নৌপথে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দেন।
গরুর আকার ও থাকার সময় অনুযায়ী খাটালগুলোর ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়। বড় গরুর জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। মাঝারি আকারের গরুর জন্য প্রায় ৩৫ টাকা এবং ছোট গরুর জন্য ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া রাখা হয়। আবার অল্প সময়ের জন্য গরু রাখলেও নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। খাটাল মালিকদের দাবি, গরুর খাবার, পরিচর্যা এবং শ্রমিক খরচ বিবেচনা করলে এই ভাড়া খুব বেশি নয়।
খাটালে খড় বা বিচালি কাটার জন্য বৈদ্যুতিক মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি খাটালে রয়েছে একাধিক নান্দা বা গরুর খাবারের পাত্র। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, গোসল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও রাখা হয়। খাটাল মালিকদের মতে, ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে গরু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই গরুর যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনমানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন, বেড়ার হাট থেকে পাঁচটি ষাঁড় গরু কিনেছেন।
এগুলো ঢাকার হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাবেন তিনি। ট্রাকে করে নিলে খরচ বেশি এবং অনেক ঝামেলাও থাকে। তাই প্রায় এক যুগ ধরে এখানে গরু রেখে বিশ্রাম করিয়ে নৌপথে নিয়ে যান। এখানে গরুর বিশ্রাম হয়, নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা থাকে। এই খাটালগুলোতে বাড়ির মতো পরিবেশ পাওয়া যায়।
বেড়া পৌর এলাকার সম্ভুপুর মহল্লার খাটাল মালিক আওয়াল হোসেন বলেন, আগে ভারতীয় গরু বেশি আসত। তখন ব্যবসা অনেক ভালো ছিল। আয়ও বেশি ছিল। এখন আগের তুলনায় গরুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। নিজস্ব জায়গায় একটি শেড তৈরি করেছেন। সেখানে প্রায় ২৫টি ষাঁড় গরু রাখা যায়। গাই গরু হলে আরও বেশি রাখা সম্ভব হয়। যারা দূরদূরান্ত থেকে গরু কিনে নৌপথে নিয়ে যান, তারা এখানে রাখেন। আমরা নিরাপত্তা ও খাবারের ব্যবস্থা করি।
মন্তব্য করুন

_medium_1779372217.jpg)





