আমরা কবে থেকে মরিচ খাওয়া শুরু করলাম
সবুজ ডেস্ক : তুমি কি জান বাঙালি রান্নায় মানে ডাল, ভর্তা, মাছের ঝোল সবখানেই যে মরিচের রাজত্ব, সেটা কি শুরু থেকেই ছিল? উত্তরটা একটু অবাক করার মতো না!
মরিচ আমাদের এই অঞ্চলের নিজস্ব পণ্য নয়। তাহলে এল কীভাবে, তাহলে শোন তোমরা। আজ আমরা যে মরিচ খাই, কাঁচা বা শুকনা লাল। এই গাছের জন্ম কিন্তু বাংলায় নয়।
অনেক অনেক আগে, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আজকের মেক্সিকো আর পেরু অঞ্চলে মানুষ প্রথম এই মরিচের চাষ শুরু করে। তখন এশিয়া বা ইউরোপের মানুষ এর অস্তিত্বই জানত না। মানে মরিচ ছিল একেবারে ‘দূরের পৃথিবীর’ একটা খাবার উপাদান। এরপর ইতিহাসে একটা বড় ঘটনা ঘটে কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রা। ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা নতুন নতুন দেশ খুঁজতে গিয়ে শুধু সোনা-রুপা নয়, অনেক নতুন গাছপালা আর খাবারও নিয়ে আসেন। মরিচও সেই তালিকায় ছিল। তারপর এই নতুন ফসল ধীরে ধীরে ইউরোপে আসে, আর সেখান থেকে এশিয়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এই সময়েই পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভাস্কো দা গামা যখন ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে আসেন, তখন থেকে ইউরোপ-ভারত বাণিজ্য আরও দ্রুত বাড়ে। এই বাণিজ্যের মাধ্যমেই মরিচ ধীরে ধীরে ভারতীয় উপমহাদেশে ঢুকে পড়ে। কালিকট বন্দর থেকে একসময় পৌঁছে যায় বাংলায়।
আরও পড়ুনমরিচ আসার আগে কিন্তু এ অঞ্চলে ঝালের অভাব ছিল না। তখন মানুষ ব্যবহার করত পিপুল (একরকম লম্বা মরিচ) আর গোলমরিচ। এগুলো ঝালের স্বাদ আছে ঠিকই, কিন্তু সমস্যা ছিল দুটি দাম বেশি, আর সহজে পাওয়া যেত না। তারপর মরিচ এল। আর আসার পরই ব্যাপারটা পুরো বদলে গেল। কারণ, মরিচ সহজে চাষ করা যায়, গাছে অনেক হয়, ঝাল বেশি লাগে আর দামও কম।
ফলে কৃষকেরা এটা চাষ করতে শুরু করলেন, আর সাধারণ মানুষ রান্নায় ব্যবহার করতে লাগলেন। ধীরে ধীরে মরিচ ঢুকে গেল প্রতিদিনের খাবারে ডাল, ভর্তা, তরকারি, মাছের ঝোলে। এত গভীরভাবে ঢুকে গেল যে আজ আমরা ভাবতেই পারি না মরিচ ছাড়া রান্না কেমন হবে!
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




