ভিডিও বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ মে, ২০২৬ ১০:৫৬ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ল্যাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব এক মাসে ২ শতাধিক গরুর মৃত্যু

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ল্যাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব এক মাসে ২শতাধিক গরুর মৃত্যু

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গবাদিপশুর মারাত্মক সংক্রামক রোগ ল্যাম্পি স্কিন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আক্রান্ত গরুর তুলনায় সরকারিভাবে এলএসডিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ কম হওয়ায় হিমসিম খাচ্ছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ। গরুর মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় এ উপজেলায় খামার খাত বড় ধরণের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।

উপজেলার চাকিরপশার, নাজিমখান, বিদ্যানন্দ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, উমরমজিদ, ছিনাই ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ রোগের ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। আজ শনিবার (৯ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ খামারের গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত।

প্রতিষেধক সহজলভ্য না হওয়ায় অনেক খামারি বাধ্য হয়ে পল্লী পশুচিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা, নিম্নমানের ওষুধ প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

খামারিরা জানান, গত ৫থেকে ৯মে পর্যন্ত চাকিরপশার ইউনিয়নের চকনাককাটি গ্রামে সুশীল মন্ডল, ভগলু মিয়া ও শৈলেন মন্ডলের ১টি গরু, চাকিরপশার পাঠক গ্রামের শিব শংকর মন্ডলের ২টি গরু, পদ্দানটারী গ্রামের আ. সালামের ২টি গরু, বোতলার এলাকায় মিলটনের ১টি গরু এ রোগে মারা যায়।

এছাড়া আমিন বাজার এলাকায় ৬টি গরু, নাজিমখান চেংপাড়া এলাকায় ৩টি গরু, বুড়ারপাট এলাকায় ৩টি গরু, তালুক সাকোয়া গ্রামে ৭টি, বোতলার পাড় ছাটমল্লিকবেগ এলাকায় ৮টি গরু, গোবর্ধন দোলায় ১০টি গরুসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খামার ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় ২শতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজারহাটে সরকারিভাবে ৫৫৫টি খামারে প্রায় ৪০ হাজার ৪২২টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ৪ থেকে ৫ হাজার ছোট-বড় খামারে কয়েক লাখ গরু পালন করা হয়। যা থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ দুধ ও মাংস সরবরাহ করা হয়।

খামারিরা জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগ মশা ও মাছির কারণে হচ্ছে। এসময় সবচেয়ে মশা ও মাছি বেশি। সরকারিভাবে মশা-মাছি দমনের ব্যবস্থা নেই। দমন করতে পারলে এ রোগ ছড়াতে পারতো না। এছাড়া সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় বাজারের ল্যাম্পি স্কিন রোগে নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার করায় গরু সুস্থ না হয়ে মারা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আজ শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগ বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটি মূলত মশা, মাছি ও সুচের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত গরুকে আলাদা করে মশারির মধ্যে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খামারিদের দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন ভারতের

বিশ্বকাপ টিকেটের বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ ইরানের

পটিয়ায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ১

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্টদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে: সংসদে তাহের

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি