নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পাশবিক এ ঘটনার শিকার হয়ে শিশুটি এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে আমান উল্লাহ সাগর নিজ গ্রামে ‘হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
শিশুটির বাবা মৃত এবং মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই ছাত্রীকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আরও পড়ুন
যেভাবে জানাজানি হলো
মাদরাসা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পাঁচ মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন স্বজনরা। সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি শিক্ষক সাগর কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা খুলে বলে।
ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী মা এলাকায় বিচারের দাবি জানান। তবে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। উপায় না দেখে থানায় মামলা করেন মা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, আমি গরিব মানুষ, সিলেটে কাজ করে খাই। মেয়েকে নিরাপদ মনে করে মাদরাসায় দিয়েছিলাম। আজ আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা। আমি এই নরপশুর বিচার চাই, যেন আর কোনো মেয়ের অবস্থা এমন না হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।