জালিয়াতি মামলায় এক বেঞ্চ অফিসার বরখাস্ত
কুকি-চিনের ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলায় জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল কুকি-চিনের ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলায় জামিন জালিয়াতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া হয় জামিন। সেই জামিন আদেশে দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তাও বদলে ফেলা হয়। বদলে ফেলা সেই জামিন আদেশ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে বসানো হয় নতুন করে মামলার নাম্বার ও থানার নাম। পরে দাখিল করা হয় কারাগারে। দাখিল করা জামিন আদেশের ভিত্তিতেই কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিনের’ ২০ হাজার পোশাক জব্দের ঘটনায় করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলার আসামি আসামি সাহেদুল ইসলাম। যিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত ‘রিংভো অ্যাপারেলসের’ মালিক।সাত মাস আগে উচ্চ আদালতে তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পেয়েছে চলতি সপ্তাহে। মামলার আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসে ওই আসামির জামিন প্রাপ্তির উদাহরণ টেনে আনলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপরই চাঞ্চল্যকর এই জামিন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে বুধবার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সাংবাদিককে বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তে অগ্রগতিও হয়েছে। বিস্তারিত দ্রুতই জানতে পারবেন।
আরও পড়ুনপ্রশাসন সূত্র বলছে, এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কি না তারও তদন্ত হচ্ছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, এতবড় জালিয়াতি বেঞ্চ কর্মকর্তা বা শাখার কর্মকর্তা ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এই জামিন জালিয়াতি চক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের’ (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দায়ের করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা। মামলায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলাম ছাড়াও এসব পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারকেও আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুই কোটি টাকা দিয়ে মংহলাসিন মারমা এবং কুকি-চীনের সদস্যদের কাছ থেকে গত মার্চ মাসে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া হয়। রিংভো অ্যাপারেলসের প্রডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে এসব পোশাক জব্দের সাক্ষী রাখা হয়েছে।বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে এই সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব সামনে আসে ২০২২ সালের শুরুর দিকে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রোদের নিয়ে এ সংগঠন গঠন করার কথা বলা হলেও সেখানে বম জনগোষ্ঠীর কিছু লোক রয়েছে। সে কারণে সংগঠনটি পাহাড়ে ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক

_medium_1777400737.jpg)






