স্বপ্নের ধান তলিয়ে যেতে দেখে জমিতেই কৃষকের মৃত্যু
সকালে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে নিজের জমিতে যান কৃষক আহাদ মিয়া (৫৫)। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, তার আবাদ করা ছয় বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে স্বপ্নের ফসল ডুবে যেতে দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
আজ শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহাদ মিয়া স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর বর্ণনা শুনে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
মৃত ব্যক্তির বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আমার ভাই। তার দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়া ৬ বিঘা জমিতে ব্রি–২৯ ধান আবাদ করেন। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান আহাদ। গিয়ে দেখেন, খেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন, সেখানেই মারা যান। পরে শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। দুপুরে জোহরের নামাজের পর রামপুর গ্রামের আহাদের মরদেহ দাফন করা হয়।
গোয়ালনগর ইউনিয়নের কৃষক কালন মিয়া জানান, আহাদ মিয়া জমির সব ধান তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে জমিতেই মারা যান। একই কারণে গোয়ালনগর এলাকার অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। খলায় রাখা ধানও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুননিহতের ভাতিজা ফারুক মিয়া বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে তাঁর চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব জমির ধান পানিতে চলে যাওয়ার দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারেননি। সকালে আটটার দিকে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোক করে জমির আলেই মারা গেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল জানান, জমিতে ধান কাটতে গিয়ে একজন কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ওই কৃষকের বাড়িতে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, উপজেলায় অনেক কৃষকের জমির ধান গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে। একজন কৃষক ধান কাটতে গিয়ে জমিতে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও খবর পেয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে তাদের নাম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে তাদেরকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1777734924.jpg)
_medium_1777734239.jpg)


_medium_1777730650.jpg)



