ডাকসুর ভিপি পদে থেকে মেয়র নির্বাচন: গঠনতন্ত্র কী বলছে?
ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে জনমনে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ডাকসুর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কি কেউ মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন? ডাকসুর গঠনতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই বিষয়ে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রে কী বলা আছে? ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ধারা ৪ ও ৮ অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে অবশ্যই পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হতে হবে এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তবে ভিপি বা অন্য কোনো পদে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে কি না—এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রে কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। ধারা ৮(খ)-এ বলা হয়েছে, ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে একইসঙ্গে একাধিক পদে প্রার্থী হওয়া যাবে না। কিন্তু মেয়র নির্বাচন ডাকসুর আওতাভুক্ত নয়, ফলে এই বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া, ধারা ৬(গ) অনুযায়ী ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ ৩৬৫ দিন, যা প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। ভিপি থাকা অবস্থায় অন্য নির্বাচনে অংশ নিলে পদ শূন্য হবে—এমন কোনো উল্লেখ নেই। ধারা ১২ ও ১৪-এ কেবল অনুপস্থিতি বা অনাস্থার কারণে পদ শূন্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশন আইন কী বলছে?
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কোনো ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে।
আরও পড়ুনএকই আইনে অযোগ্যতার যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে ‘ডাকসুর ভিপি’ বা কোনো ছাত্র সংসদের পদে থাকা অন্তর্ভুক্ত নয়। অযোগ্যতার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাগরিকত্ব হারানো, দেউলিয়া হওয়া, অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, সরকারি লাভজনক পদে থাকা, ঋণখেলাপি হওয়া বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়া।
রাজনৈতিক সংগঠনের অবস্থান কি? এদিকে, ছাত্রসংগঠনগুলোর নিজস্ব নীতিমালা এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান দেখাচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবির জানিয়েছে, তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা কোনো নেতা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “দায়িত্বে থাকাকালীন কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে আগে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর ব্যক্তি হিসেবে অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব।
আইন ও গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ডাকসুর ভিপি পদে থেকে মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণে সরাসরি কোনো বাধা নেই। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক নীতি, নৈতিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিধির ওপরও নির্ভরশীল।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







