ভিডিও শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ মে, ২০২৬, ০৫:৫১ বিকাল

১০৫-এ সত্যজিৎ রায়: যিনি বদলে দিয়েছিলেন সিনেমার ইতিহাস

১০৫-এ সত্যজিৎ রায়: যিনি বদলে দিয়েছিলেন সিনেমার ইতিহাস

বাংলা ও বিশ্ব চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ (২ মে)। যিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মহান নির্মাতার জন্মদিন ঘিরেও রয়েছে এক ব্যতিক্রমী অভ্যাসের গল্প।

সত্যজিৎ রায় শুনলেই কানে গুপি গাইন বাঘা গাইন, হীরক রাজার দেশে, পথের পাঁচালির মতো সিনেমাগুলোর নাম চলে আসে। তবে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই তিনি প্রসিদ্ধ নন, লিখেছেন অসংখ্য বই, উপন্যাস; যা আজও তুমুল জনপ্রিয়। আজ তার জন্মবার্ষিকীতে ফের তা স্মরণের সময় এলো।

সত্যজিৎ তার পড়াশোনা শেষ করতেই প্রখ্যাত শিল্পী বিনোদবিহারী মুখার্জির সান্নিধ্যে তার শিল্পীজীবনের প্রকৃত উন্মেষ ঘটান। আঁকতেন ছবি, ১৯৪৩ সালে একটি ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থায় পেশাজীবন শুরু করলেও, সিগনেট প্রেসে বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকার কাজ তার সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।

কিন্তু চলচ্চিত্র জীবনে পা রাখাটা সহজ ছিল এই নির্মাতার। তার কখনো ইচ্ছেও ছিল না- এই পথে হাঁটবেন। কিন্তু শখের বসে একদিন চিত্রনাট্য লিখে ফেললেন; এরপর?  

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে নিজের চলচ্চিত্র দর্শনের কথা স্পষ্ট করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। সেখানেই জানান তার চলচ্চিত্র জীবনের শুরুর দিকের কথা। তার মতে, শিল্পীর মধ্যে প্রকৃত প্রতিভা থাকলে তাকে ভালো ছবি করতেই হবে; দর্শকের দোহাই দিয়ে সস্তা বা খেলো ছবি নির্মাণে তিনি একেবারেই বিশ্বাসী ছিলেন না। চলচ্চিত্রে তার কোনো প্রথাগত অভিজ্ঞতা বা শিক্ষা ছিল না।

একপর্যায়ে সিনেমা জগতে উৎসাহ পান সত্যজিৎ। ১৯৪৮ সালে বন্ধুদের নিয়ে কলকাতায় একটি ফিল্ম ক্লাব গড়ে তোলেন। মূলত সেই শখ এবং চলচ্চিত্র নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা ও চর্চা থেকেই তার চিত্রনাট্য লেখার সূত্রপাত ঘটে। এরপর ছবি নির্মাণের তীব্র জেদ চেপে বসে তার ওপর। ১৯৫০ সালে লন্ডনে গিয়ে বহু ছবি দেখার পর, ফেরার পথে জাহাজে বসেই ‘পথের পাঁচালী’র প্রথম খসড়া তৈরি করেন তিনি। এরপর প্রযোজক জোগাড় করতে গিয়ে কলকাতার প্রায় সব প্রযোজক-পরিবেশকের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন।

এরপর আক্ষেপ করে বলেন, এরপর ১৯৫২-তে নিজেদের যে কিছু টাকাকড়ি ছিল তাই জোগাড় করে একসঙ্গে করে ছবি তোলা আরম্ভ করি। এই হলো সূত্রপাত। তারপর ছবি তুলতে লাগে তিন বছর। টাকা ফুরিয়ে যায়। এক বছর ছবির কাজ বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুন

নির্মাতা জানিয়েছিলেন, পরে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তায়, প্রযোজনায় তিন বছর পর শেষ হয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস বদলে দেওয়া এই ছবির কাজ।

‘পথের পাঁচালী’তে তিনি সচেতনভাবেই অপেশাদার অভিনয়শিল্পী বেছে নিয়েছিলেন, কারণ উপন্যাসের অপু, দুর্গা বা ইন্দির ঠাকুরুন চরিত্রগুলোর সাথে মানানসই পেশাদার শিল্পী তখন ছিলেন না। তার এই নিখুঁত চরিত্র বাছাইয়ের নেপথ্যে ছিল পারিবারিক শৈল্পিক আবহ।

চলচ্চিত্রের মতো সাহিত্যেও সত্যজিৎ রায় এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার লেখা কিশোর গোয়েন্দা কাহিনী, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও রহস্য রোমাঞ্চ গল্প আজও তুমুল জনপ্রিয়। তবে আধুনিক যুগে প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে তরুণদের পাঠ্যাভ্যাসেও বিশাল বদল এসেছে। বর্তমানে অনেক তরুণই ছাপার অক্ষরের বইয়ের চেয়ে অডিওবুকের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। রাত হলে ঘুমানোর আগে কষ্ট করে বই পড়ার বদলে অনেকেই এখন চোখ বন্ধ করে অডিওবুক শুনতে ভালোবাসেন। ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে খুঁজলেই দেখা যায়, সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত গল্পগুলো, বিশেষ করে 'সন্দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত ছোটগল্প ও রোমাঞ্চকর কাহিনীগুলো অসংখ্য চ্যানেলে 'অডিও বুক' আকারে প্রকাশিত হয়েছে। মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউয়ের এই সংখ্যাগুলোই স্পষ্ট প্রমাণ করে, মাধ্যম বদলালেও নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সত্যজিৎ রায়ের জাদুকরী লেখনীর আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি।

১৯২১ সালের এই দিনে কলকাতার গড়পার রোডের বিখ্যাত বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। স্কুলে প্রথম পা রেখেছিলেন ৯ বছর বয়সে। ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর ‘অপরাজিত’, ‘পরশ পাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘অপুর সংসার’, ‘তিন কন্যা’র মতো একের পর এক কালজয়ী চলচ্চিত্রে ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন এই কিংবদন্তি। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি গ্রহণ করেন সম্মানসূচক অস্কার পুরস্কার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০৫-এ সত্যজিৎ রায়: যিনি বদলে দিয়েছিলেন সিনেমার ইতিহাস

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড-এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নেবে আড়ং, লাগবে না অভিজ্ঞতা

পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে বাংলাদেশ-ভারত

এসিআই মটরসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

নিজেদের জলদস্যু বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প