এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা বিপাকে
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নাভিশ্বাস : দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ব্যাপকহারে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দপতন ঘটছে। জনজীবনে নেমে এসেছে নাভিশ্বাস। মিল-কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা সেই সাথে এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে ১২ থেকে ১৬ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৩ মেগাওয়াট, ফলে লোডশেডিং চলছে।
এই কেন্দ্র থেকে দুপচাঁচিয়া-কাহালু দু’টি উপজেলাসহ তিনটি পৌরসভার তিনটি হিমাগার, দুইটি বিস্কুট কারখানা, ২টি পেপার মিল, ১টি টাইলস মিল, ১১টি অটোরাইস মিল, ১টি ময়দার মিল, প্রায় সাড়ে ৭শ’ রাইস মিলসহ মোট ৯ হাজার ১৭টি মিল-কারখানা ছাড়াও ৪শ’ শ্যালো মেশিন ও ডিপ টিউবয়েল, ৩২৮ টি মসজিদ, মন্দির, হাসপাতালসহ প্রায় ৩৮ হাজার ৫শ’ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ১ ঘণ্টা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুতের এই ঘনঘন লোডশেডিংয়ে পড়ে দুই উপজেলাবাসীকে চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরাসহ পোল্ট্রি ফার্ম ও খামারি মালিকরাও পড়েছে বিপাকে। এদিকে গৃহস্থলির কাজে সমস্যাসহ দিনমজুর রিকশাওয়ালা খেটে খাওয়া নানা পেশার মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছেন।
রাতে লোডশেডিংয়ে বাড়ির বয়স্ক অসুস্থ ও শিশুদের দুর্ভোগের সীমা থাকছে না। বিদ্যুৎতের এই ঘন-ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে বাসা, বাড়ির এমনকি দোকানের বিভিন্ন মূল্যবান ইলেট্রনিক জিনিসপত্র টিভি, ফ্রিজ কম্পিউটার, ফটোস্ট্যাট মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন অফিসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে তারাও চরম বিপাকে পড়েছে।
আরও পড়ুনএ ব্যাপারে বিদ্যুৎ গ্রাহক ঊষা ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী দ্বিজেন্দ্রনাথ বসাক মন্টু জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কারখানার উৎপাদন অর্ধেক নেমেছে। বিভিন্ন মোকামে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা থাকলেও তা সরবরাহ করতে পারছেন না। বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। সারাদিন রাতে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে।
জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালিয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে পাম্পে তেলও ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ এর ঘন-ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে মেশিন পুড়ে যাচ্ছে। এদিকে গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চারটি কেন্দ্র দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যলায়, তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও তালোড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও দুপচাঁচিয়া দারুস সুন্নাহ কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদ্যুতের এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন লোডশেডিংয়ের ফলে পরীক্ষার্থীদের রুর্ভোগের সীমা থাকে না।
এ ব্যাপারে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, তাদের কারিগরি কোন ত্রুটি নেই। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়ায় লোডশেডিং চলছে। এই অবস্থা শুধু দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার নয় বগুড়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার। এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই।
মন্তব্য করুন

_medium_1777130215.jpg)

_medium_1777129754.jpg)
_medium_1777129529.jpg)

_medium_1777128931.jpg)
