ভিডিও শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৪ রাত

লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপাকে রংপুর অঞ্চলের কৃষক

লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপাকে রংপুর অঞ্চলের কৃষক

রংপুর প্রতিনিধি: লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট ও ডিজেলের বাড়তি খরচে বোরো মৌসুমে বিপাকে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের কৃষকেরা। সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, সঠিক পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পানির অপচয় কমার পাশাপাশি হাজার হাজার টন ডিজেলও সাশ্রয় সম্ভব।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে সাধারণত ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক কৃষক সঠিক ধারণা না থাকায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহার করছেন। ফলে যেমন ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহারও।

মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় কৃষকেরা অনুমাননির্ভরভাবে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এ বছর ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এসব জমিতে সেচের জন্য বিদ্যুৎচালিত গভীর ও অগভীর নলকূপের পাশাপাশি ডিজেলচালিত ৯৬ হাজার ৪১৯টি অগভীর নলকূপ এবং ৬৬৬টি এলএলপি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের কৃষক হুমায়ন খান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ বার সেচ দিতে হয়। বর্তমানে ডিজেলের সংকট চলছে। তার ওপর বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং আছে। সেচ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

কৃষি বিশেষজ্ঞ নুর চৌধুরী বলেন, বোরো চাষে সেচের পরিমাণ কমাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এডব্লিউডি ও ডিএসআর পদ্ধতিতে ধান উৎপাদনের কৌশল মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করলে কৃষক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার পানি ব্যবহার করেই এক কেজি ধান উৎপাদন করতে পারবেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের এ সংকটের সময়ে তেল ও পানি দু’টোরই অপচয় বন্ধ করতে হবে। এবার বৃষ্টির কারণে কয়েকটি সেচ প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে গেছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, জমির পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যেন সেচ না দেওয়া হয়, কয়েক দিন পরে সেচ দেওয়া উত্তম।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপাকে রংপুর অঞ্চলের কৃষক

বগুড়ায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যাহত শিল্প ও কৃষি উৎপাদন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ধান কর্তন ও সজিনা চারা রোপণের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ

বগুড়ার কাহালুতে প্রবাসীর ১ম স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন, স্বামীসহ ২য় স্ত্রী গ্রেফতার

নওগাঁর আত্রাইয়ে দোকান ঘরের সিঁধকেটে মালামাল চুরি