ইউএনও’র উদ্যোগে ডিমলায় শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেল বাবু
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মানবিকতা ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চলতি এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বাবু হোসেন শ্রুতি লেখকের (স্ক্রাইব) মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের আকাশ কুড়ি গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, জটুয়া খাতা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বাবু হোসেন ডিমলার খগাখড়িবাড়ী আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে নিজ হাতে উত্তরপত্র লিখতে পারছিলেন না।
গত ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পরীক্ষার্থীর অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরে কেন্দ্র সচিব মো. ফেরদৌস আলমের কার্যালয়ে গিয়ে অভিভাবককে ডেকে পাঠান। সেখানেই তিনি শিক্ষার্থীর বাস্তব পরিস্থিতি ও জীবন সংগ্রামের কথা শোনেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইউএনও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে শ্রুতি লেখকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি দ্রুত দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির আশ্বাস পান। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন পাঠানো হলে দ্রুতই অনুমোদন মেলে।
আরও পড়ুনসূত্র জানায়, একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শ্রুতি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী বাবু হোসেনের পরিবার ইউএনও’র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল এ উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত কেবল একজন শিক্ষার্থীর জীবনেই পরিবর্তন আনেনি, বরং সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে কেউ পিছিয়ে থাকবে না, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
মন্তব্য করুন







