ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জের আবুল কালাম আঙ্গুর চাষে সফল
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রায় তিন দশক চেষ্টার পর আঙ্গুর চাষে সফলতা অর্জন করেছেন ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জের চাষী আবুল কালাম আজাদ। তার বাগানের গাছে গাছে এখন থোকায় থোকায় আঙ্গুর ফল ঝুলছে।
দূরদূরান্ত থেকে দেখতে আসছেন নানা বয়সের উৎসুক মানুষ। অনেকে বাগান করার আগ্রহও প্রকাশ করছেন। এ বাগান থেকে এবার প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছেন চাষী আবুল কালাম আজাদ। কৃষি বিভাগ বলছেন এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের উপযোগী হওয়ায় আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণে কাজ করবেন তারা।
পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর ঝোলঝুলি বাজারের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ। জীবিকার তাগিদে ১৯৯৩ সালে সৌদিআরবে পাড়ি জমান। ফিরে আসেন ১৯৯৬ সালে। প্রবাসে থাকাকালে আঙ্গুর চাষের প্রতি আগ্রহ জাগে তার। এরপর যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্থান থেকে আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন কিন্তু সেসব গাছের আঙ্গুরও মিষ্টি না হওয়ায় গাছ কেটে ফেলেছেন।
মিষ্টি আঙ্গুর ফলাতে না পেরে দুই দশকের অধিক সময় ধরে আঙ্গুর গাছ লাগান এবং কেটে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন ইউটিউব ঘেটে বিদেশ থেকে মিষ্টি জাতের আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। ২০২৫ সালে সেসব চারা বাড়ির চারপাশের পতিত জমি এবং পুকুর পাড়ে রোপণ করেন। মিষ্টি আঙ্গুরের ভরপুর হয়ে উঠে তার বাগান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সফলতা পান তিনি।
পরের বছর আঙ্গুরের বাগান সম্প্রসারিত করেন। বর্তমানে চার বিঘা আয়তনের তার আঙ্গুর বাগানে ১শ’ আঙ্গুর গাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ফল এসেছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এসব ফল বিক্রি করার উপযোগী হবে। সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে তার বাগান থেকে পাইকাররা আঙ্গুর নিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। আশা করছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করতে পারবেন।
আরও পড়ুনবাগান মালিক আবুল কালাম আজাদ জানান, বর্তমান তার বাগানে বাইকুন, অ্যাপোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, সিলভা, ব্ল্যাক জাম্বু, ব্ল্যাক ম্যাজিক, সুলতানা অনুসরা, ভেলেজ ডিরসনসহ প্রায় ২২ প্রজাতির আঙ্গুর গাছ রয়েছে। বাগান করতে তার ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছরেই খরচের টাকা উঠে আসবে বলে অভিমত বাগান মালিকের।
এরপর প্রতিবছর বাগান থেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় করবেন তিনি। বাগানে তেমন কোন খরচ নেই। তিনি নিজে এবং দুইজন সহকারী নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, পীরগঞ্জের আঙ্গুর বাগানটি এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের উপযোগী।
তারা আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকরা আঙ্গুর চাষ করলে ভালো লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি। আঙ্গুর বাগান করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এই কৃষিবিদ।
মন্তব্য করুন







